‘গণধর্ষণের শিকার’ ১৪ বছরের নাবালিকা, দু’জনকে গ্রেপ্তার করল হাবড়া থানার পুলিশ
দৈনিক স্টেটসম্যান | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মামার বাড়িতে বেড়াতে এসে গণধর্ষণের শিকার ১৪ বছরের নাবালিকা। এক বান্ধবীর ফোন পেয়ে সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। তারপর রাতে তাকে উদ্ধার করা হয়। পানীয়ের সঙ্গে কোনও ওষুধ মিশিয়ে পান করিয়ে তাকে প্রথমে বেহুঁশ করা হয়। তারপরে একটি বাগানবাড়িতে নিয়ে গিয়ে তাকে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এই গণধর্ষণের অভিযোগের ভিত্তিতে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে ১২ বছরের এক নাবালিকাকেও। ‘নির্যাতিতা’ এখন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ার এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই আলোড়ন পড়ে গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, এই গণধর্ষণের ঘটনায় জয় পাল এবং দেবব্রত মল্লিক নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে হাবড়া থানার পুলিশ। রবিবার তাদের বারাসত আদালতে তোলা হলে পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। রাতে ওই কিশোরীকে মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তারপর তাকে হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অস্ত্রোপচার হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পনা করেই মেয়েকে ওই বাগানবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক। হাবড়া পুরসভা এলাকাতেই নির্যাতিতার মামার বাড়ি। সেখানে বেড়াতে গিয়েছিল সে।
শনিবার সন্ধ্যায় ওই কিশোরীকে দূর সম্পর্কের এক বোন ডেকে নিয়ে যায়। তারা পথে হাঁটার সময় পূর্বপরিচিত দুই যুবকের সঙ্গে দেখা হয়। দুই নাবালিকাকে একটি জায়গায় নিয়ে গিয়ে নেশার পানীয় খাওয়ানো হয় বলে অভিযোগ। নির্যাতিতা কিশোরীকে যে নিয়ে গিয়েছিল তার বয়স ১২। পুলিশকে ১২ বছরের মেয়েটি বয়ান দিয়েছে, নেশায় আচ্ছন্ন হতেই দুই যুবক তাকে বাড়ি চলে যেতে বলেছিল। সে তাই করেছিল। আর ১৪ বছরের কিশোরীকে ওই দুই যুবক নিয়ে যায় স্থানীয় একটি শিবমন্দিরের পাশে নির্জন জায়গায়। এরপর সময় কেটে যায়। রাত পর্যন্ত মেয়ের খোঁজ না পেয়ে মামার বাড়ির সদস্যরা হাবড়া থানায় গিয়ে অভিযোগ জানান। নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পরে হাবড়া থানার পুলিশ। তখন প্রথমে ওই ১২ বছরের নাবালিকাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেখান থেকে যে তথ্য মেলে তার ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। সেখানে গিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ। তখন নির্যাতিতা অসুস্থ এবং অচৈতন্য অবস্থায় ছিল।। তড়িঘড়ি তাকে হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল পুলিশকে জানায়, এই কিশোরীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। তখনই দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই দুই যুবকই বিবাহিত। দাম্পত্য কলহে দু’জনের স্ত্রী শ্বশুরবাড়ি ত্যাগ করেছেন।