আসানসোল মহকুমা জুড়ে বন্ধ বাস পরিষেবা। টোটো-অটোর দৌরাত্ম্য,পার্কিং নিয়ে সমস্যার প্রতিবাদে বাস পরিষেবা বন্ধ রেখেছেন বাসকর্মীরা। অন্য দিকে, বর্ধমান শহরেও সকাল থেকে বাস পরিষেবা অমিল ছিল। তবে বেলা বাড়লে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিষেবা সচল হয়। সার্বিক ভাবে, সপ্তাহের শুরুর দিনেই বাস না থাকায় আসানসোল-বর্ধমান জুড়ে চরম ভোগান্তি যাত্রীদের।
আসানসোলে বাসকর্মীদের অভিযোগ, বার্নপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে আসানসোল স্টেশন পর্যন্ত এই রুটে মিনিবাস চলাচল করে। সেই বাসগুলোকে আসানসোল স্টেশনে পৌঁছনোর পরে সেখানে পার্কিংয়ে দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না। সেখানে প্রতিটি ট্রিপের জন্য তাদের কাছ থেকে স্থানীয় কয়েকজন যুবক বলপূর্বক ৫০ টাকা করে নেয় বলে অভিযোগ। চালকদের বক্তব্য, অটো ও টোটোর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মিনিবাসে যাত্রী কমে গিয়েছে। অনেকটাই কমেছে আয়ও। প্রতিটি ট্রিপের জন্য ৫০ টাকা দিতে হলে মালিকদের বড় ধরনের লোকসান হবে। প্রতিবাদে সোমবার দুপুর থেকে আসানসোল মহকুমা জুড়ে মিনিবাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
অন্য দিকে, বর্ধমান শহরের বিভিন্ন রুটে প্রায় ৮০টির মতো মিনিবাস চলাচল করে। নবাবহাটের পূর্বাশা বাসস্ট্যান্ড থেকে উল্লাসের আলিশা বাসস্ট্যান্ড ও পূর্বাশা থেকে পূর্তভবন পর্যন্ত মিনি বাস চলাচল করে। বর্ধমান টাউন সার্ভিস বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সিদ্ধার্থ পাল জানিয়েছেন, আমরা বাস পরিষেবা বন্ধ রাখিনি। শ্রমিকদের তরফ থেকে টাউন সার্ভিস বাস ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সকালের দিকে সমস্যা হলেও পরে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এ দিন জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে মিনিবাস বা টাউন সার্ভিস বাসের মালিকদের ডাকা হয়েছিল RTO দপ্তরে। সেখানে বেলা একটা পর্যন্ত বৈঠক করেন জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়, সকাল আটটা থেকে রাত্রি আটটা পর্যন্ত শহরের মধ্যে কোনও টোটো চলবে না। এই সিদ্ধান্তের পরে বাস পরিষেবা আপাতত সচল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে