• কামান দেগে হয় সন্ধিপুজো, জানেন নদিয়ার এই বনেদি বাড়িতে কেন দশভুজা নন দুর্গা?
    প্রতিদিন | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • সাধারণত দশহাতের দুর্গা প্রতিমা দেখতে আমরা অভ্যস্ত। তবে এই বনেদি বাড়ির বিশেষত্ব দেবী প্রতিমার দুই হাত। শুধু তাই নয়, সন্ধিপুজোর সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে অলৌকিক কাহিনি। প্রদীপের শিখা সোজা হলে কামান দেগে শুরু হয় সন্ধিপুজো। নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের মাজদিয়া লাগোয়া পাবাখালি রায়চৌধুরী বাড়ির তিনশো বছরের প্রাচীন এই পুজোর নেপথ্যে রয়েছে আরও নানা কাহিনি।

    রায়চৌধুরী পরিবারের দুর্গাপুজোর ইতিহাস ৩০০ বছরেরও বেশি পুরনো। বাংলাদেশের যশোর জেলার মহেশপুরে জমিদার শিবপ্রসাদ রায়চৌধুরীর হাত ধরে এই পুজোর সূচনা। দেশভাগের যন্ত্রণা বুকে নিয়ে ওই পরিবারের সদস্যরা ১৯৪৯ সালে নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের মাজদিয়া লাগোয়া পাবাখালিতে এসে বসতি গড়ে। বদলে যায় ঠিকানা। তবে বদলায়নি পরিবারের দুর্গাপুজোর রীতি। রথের দিন কাঠামো পুজো দিয়ে শুরু হয় প্রতিমা তৈরির কাজ। প্রতিমায় রয়েছে বিশেষত্ব। মায়ের হাত মাত্র দু’টি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে একই রীতিতে তৈরি হয়ে আসছে এই প্রতিমা।

    পুজোর আচারেও রয়েছে বনেদিয়ানার ছাপ। সপ্তমীর দিন হোমকুণ্ডে আগুন জ্বলে। নবমীতে দেওয়া হয় আহুতি। দেবীর ভোগেও রয়েছে নিজস্বতা। কলাইয়ের ডাল এবং আমন ধানের চাল দিয়ে তৈরি ভোগ নিবেদন করা হয়। তবে রায়চৌধুরী বাড়ির পুজোর সবচেয়ে রহস্যময় মুহূর্ত আসে সন্ধিপুজোর সময়। আগে থেকেই প্রস্তুত থাকে কামান। কিন্তু ইচ্ছেমতো তা দাগা হয় না। প্রদীপের শিখা সোজা হওয়ার অপেক্ষা করেন পরিবারের সদস্যরা। শিখা সোজা হলেই কামান দাগা হয়। সেই শব্দের পরেই শুরু হয় সন্ধিপুজো। বহু পুরনো এই রীতিই এখনও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে আসছে পরিবার। দশমীতে সূর্য ডোবার সন্ধিক্ষণে কাঁধে করে দেবীকে নিয়ে যাওয়া হয় শিবনিবাসের চূর্ণী নদীর ঘাটে। সেখানেই হয় প্রতিমা বিসর্জন। পুজোর দিনগুলিতে দূরদূরান্তে থাকা পরিবারের সদস্যরাও ফিরে আসেন পাবাখালির বাড়িতে। আজকের দিনে চারপাশে বারোয়ারি পুজোর জাঁকজমক। আলোর ঝলকানি, বড় মণ্ডপ, থিমের প্রতিযোগিতা বাড়ছে। কিন্তু পাবাখালির রায়চৌধুরী বাড়ি আজও ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় একইরকম উজ্জ্বল।
  • Link to this news (প্রতিদিন)