হরমুজ প্রশ্নের ‘উত্তর’ বীরভূমে! বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে তৈরি হচ্ছে মেগা প্রকল্প
প্রতিদিন | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রাজ্যের অন্যতম বড় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে উঠছে বীরভূমের (Birbhum) রাজনগরে। আর পরিকাঠামো তৈরির কাজ একেবারে যুদ্ধকালীন তৎপরতা চলছে। প্রায় ৪০-৪৫ একর জমিজুড়ে তৈরি হচ্ছে এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প। প্রকল্পে ইতিমধ্যেই প্রায় ২১ হাজার সৌর প্যানেল বসানো হয়েছে। ধাপে ধাপে আরও বেশ কয়েকটি প্যানেল বসানো হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থা সূত্রে খবর, নির্মাণকাজের প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ। বাকি কাজও দ্রুত শেষ করে চলতি বছরেই গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।
প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক সৈকত মণ্ডল জানান, এটি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বন্টন নিগমের অধীনে একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প। সৌর প্যানেলগুলিতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ৩৩ কিলোভোল্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিডে পাঠানো হবে। পরে গ্রিডের প্রয়োজন অনুযায়ী তা বিভিন্ন সাবস্টেশনের মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থায় যুক্ত হবে। ফলে এই প্রকল্প থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কোনও একটি নির্দিষ্ট এলাকার জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উঠে এসেছে অব্যবহৃত জমির কার্যকর ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব শক্তির উৎপাদন। জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শুধু তাই নয়, আগামিদিনে পুরোদমে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু হয়ে গেলে বিদ্যুতের খরচ কিছুটা হলেও কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমান পরিস্থিতি হরমুজ ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক জটিলতা। যুদ্ধের কারণে হরমুজে থাকা একাধিক জাহাজকে টার্গেট করা হচ্ছে। যার প্রভাব পড়েছে গোটা দেশের আমদানি-রপ্তানিতে। বাদ পড়েনি ভারতও। এরফলে জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যে পড়তে হয়েছে ভারতকেও। তবে আগামিদিনে এক্ষেত্রে দিশা দেখাতে পারে এহেন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলি।
জানা গিয়েছে, বীরভূমে এর আগে ডব্লিউবিএসইডিসিএলের আরও দু’টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি হয়েছে। তার মধ্যে রাজনগর এলাকাতেও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকাঠামো রয়েছে। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন জায়গায় আরও কয়েকটি প্রকল্প নির্মাণের পর্যায়ে রয়েছে। এদিকে প্রকল্পকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে প্রচার। বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে রাজ্যের বিদ্যুতের ঘাটতি মেটানোর পাশাপাশি সবুজ শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য পূরণ হবে। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রের ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাজ্যেও বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর উন্নয়ন প্রয়োজন। রাজনগরে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পাশাপাশি ওই এলাকার রেল যোগাযোগ এবং সিসাল ফার্মের উন্নয়ন নিয়েও ভবিষ্যতে কাজ হবে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর কথায়, আগামী দিনে এই ধরনের আরও একাধিক প্রকল্পের সুফল জেলায় পৌঁছবে। এলাকার এই সার্বিক উন্নয়নের জন্য সিউড়ির বিধায়ক তথা রাজ্যের উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যাপক অবদান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন উদয় শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।