প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে সেনা সরিয়েছে চিন, ব্রিকস সাফল্যের মাঝেই সীমান্তে স্বস্তির রিপোর্ট কেন্দ্রের
প্রতিদিন | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকে সীমান্তে শান্তি ফেরানোর বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর ঠিক পর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় স্বস্তির খবর। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বার্ষিক রিপোর্টে (২০২৫-২৬) দাবি করা হয়েছে, ২০২৫ সালে উত্তর সীমান্ত থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে সেনা সরিয়েছে চিন (China PLA)। অন্যদিকে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় ভারতীয় সেনার অবস্থান একই রয়েছে। দীর্ঘ কূটনৈতিক ও সামরিক আলোচনার জেরেই এটা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি সেনার। শুধু তাই নয়, জম্মু ও কাশ্মীরে পাথর ছোড়ার মতো ঘটনাও শূন্যে নেমেছে বলে জানানো হয়েছে রিপোর্টে।
কেন্দ্রের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে জুড়ে ধাপে ধাপে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে সেনা কমিয়েছে চিন। বর্তমানে এলএসির ওপারে ১০টি কম্বাইন্ড আর্মস ব্রিগেড আকারের বাহিনী রয়েছে। লাগাতার টহল দিচ্ছে তারা। এর অর্থ হলো, চিন আগের তুলনায় সীমান্তে তার সামরিক উপস্থিতি সীমিত করেছে, কিন্তু তার সামরিক কার্যকলাপ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। ভারতীয় সেনাবাহিনীও এই অঞ্চলে সেনা মোয়াতেন করেছে। যে কোনও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত ভারত। সেনা জানিয়েছে এটা সম্ভব হয়েছে, দফায় দফায় কূটনৈতিক এবং সামরিক আলোচনার জেরে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে পূর্ব লাদাখে ২৩তম কোর কমান্ডার স্তরের বৈঠক হয়েছে। তারপরই ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যহার করেছে চিন।
রিপোর্টে আরও জানানো হয়েছে, গত এক বছরে জম্মু ও কাশ্মীরে হিংসার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পাথর ছোড়ার ঘটনা নেমে এসেছে শূন্যে। বিক্ষোভ তুলনামূলকভাবে অনেক কম এবং এই এক বছরে একজন মাত্র জঙ্গি দলে যোগ দিয়েছে। পাশাপাশি রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে নিয়ন্ত্রণ রেখায় (LOC) ৬টি অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয়, ১২ জন কাশ্মীরি জঙ্গির মৃত্যু হয়। যদিও সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা ব্যাপক বেড়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে দু’বার সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন হয়েছিল সেখানে ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬৩টি। এর মধ্যে ১২৪টি অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন।
এছাড়া ২০২৫ সালে পশ্চিম সীমান্তে ৮৬৩টি ড্রোনের অনুপ্রবেশ ঘটে। এর মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীরে ৯টি ও রাজস্থানে ৮৫৪টি। এর মধ্যে ২৩৭টি ড্রোন ভূপতিত হয়েছে। এর ৭২টিতে ছিল মাদক ও ৫টিতে ছিল অস্ত্র। উদ্ধার হয়েছে ২টি AK-47, ৭৫টি পিস্তল ও ২৮১ কেজি মাদক।