পৃথক দু’টি ঘটনায় সাপের কামড়ে মৃত্যু হলো দুই কিশোরীর। শনিবার প্রথম ঘটনাটি ঘটে উত্তরপ্রদেশের কামতাগঞ্জের ভারসারে গ্রামে। মৃতার নাম সৌম্যা সিং (১৬)। একই দিনে দ্বিতীয় ঘটনায় অখণ্ডনগরের পায়েল সিংয়ের (১৩) মৃত্যু হয়েছে। দু’জনকেই ঘুমের মধ্যে বিষধর সাপ কামড়েছিল বলে অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে খেয়েদেয়ে ঘুমোতে গিয়েছিল সৌম্যা। রবিবার সকালে ঘুম থেকে না ওঠায় ডাকাডাকি শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। কোনও সাড়া না পেয়ে ঘরে ঢুকে দেখেন, অচেতন অবস্থায় বিছানায় পড়ে রয়েছে সে। সারা শরীর নীল হয়ে গিয়েছে। ডান হাতের আঙুলে সাপের কামড়ের দাগ ছিল বলেও দাবি পরিবারের।
সঙ্গে সঙ্গে সৌম্যাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। সেখানেই তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। সৌম্যার দেহ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ফিরে দেখেন, যে বিছানায় সে ঘুমিয়েছিল, তার ছত্রিতে একটি সাপ জড়িয়ে রয়েছে। মৃতার বাবা পঙ্কজ সিং মুম্বইয়ে থাকেন। মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
একই দিনে অখণ্ডনগরের বেরুকা গ্রামে সাপের কামড়ে মৃত্যু হয়েছে পায়েল সিং নামে আর এক কিশোরীর। বোনেদের সঙ্গে ঘরেই ঘুমিয়েছিল সে। সেই সময়েই তাকে সাপে কামড়ায় বলে পরিবারের দাবি। অচেতন পাওয়েলকে প্রথমে এক ওঝার কাছে নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু তার পরেও জ্ঞান না ফেরায় সুলতানপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে পাওয়েলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
উল্লেখ্য, বর্ষার সময়ে সাপের উপদ্রব বাড়ে। শুকনো ও নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে তারা অনেক সময় লোকালয়, বাড়ির উঠোন এমনকী ঘরের ভিতরেও ঢুকে পড়ে। তাই এই সময়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। বিষধর সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে দেরিতে চিকিৎসা শুরু হলে মৃত্যুর সম্ভাবনা বেড়ে যায় বলে দাবি তাঁদের।
মৃত দুই কিশোরীর নাম কী?
সৌম্যা সিং ও পায়েল সিং।
সৌম্যার বয়স কত ছিল?
১৬ বছর।
পায়েল সিংয়ের বয়স কত ছিল?
১৩ বছর।
সৌম্যার সঙ্গে কী ঘটেছিল?
শনিবার রাতে ঘুমোতে যাওয়ার পর রবিবার সকালে তাঁকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের দাবি, সাপের কামড়েই মৃত্যু হয়েছে।
সৌম্যার বাড়ি ফিরে কী দেখা যায়?
যে বিছানায় সৌম্যা ঘুমিয়েছিল, সেই বিছানার ছত্রিতে একটি সাপ কুণ্ডলী পাকিয়ে ছিল বলে পরিবারের দাবি।