এই সময়, জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়ির একটি স্কুলে প্রধান শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় আরও তিন ছাত্রকে আটক করল পুলিশ। সবমিলিয়ে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত চার নাবালককে আটক করা হয়েছে। শনিবার ওই চার জনকে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের সামনে হাজির করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট তাদের দু'দিনের জন্য হোমে রাখার নির্দেশ দেন। প্রধান শিক্ষক তাঁর অভিযোগপত্রে লিখেছেন, বহিরাগতরা তার উপরে হামলা চালিয়েছে। তা হলে স্কুলের চার ছাত্রকে কেন আটক করা হলো, এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও পুলিশের দাবি ছাত্ররা নিজেরাই তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে।
এ দিকে, প্রধান শিক্ষককে মারধরের ঘটনা সমর্থন না-করেও ছাত্রদের ট্রান্সফার সার্ফিফিকেট (টিসি) দেওয়া এবং পুলিশি আটক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শহরের অবিভাবকদের একাংশ, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির (সিডব্লিউসি) প্রাক্তন সদস্যরা। তাঁদের যুক্তি, এই ঘটনা চার ছাত্রের মন এবং মানসিকতায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সেই সঙ্গে 'অপরাধী' তকমা লেগে গেলে তাদের ভবিষ্যতও প্রশ্নের মুখে দাঁড়াতে পারে।
দশম শ্রেণির এক ছাত্রের অভিভাবক এবং শিক্ষিকা অন্তরা রায় বলেন, 'শিক্ষককে মারধর কখনই সমর্থন করি না। তবে এত বড় পদক্ষেপের আগে ছাত্ররা কেন এমনটা ঘটাল, তা জানার জন্য কর্তৃপক্ষ ওই ছাত্রদের কাউন্সেলিং করাতে পারতেন। সেটা না-করে সরাসরি টিসি দেওয়া হলো! এর পরে ছাত্রদের অন্য স্কুল ভর্তি নেবে কি না সেটাও এখন প্রশ্ন।'
জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ স্বস্তিশোভন চৌধুরী বলেন, 'চার ছাত্রকে টিসি দেওয়ার আগে কাউন্সেলিং করিয়ে তাদের বক্তব্য শোনা উচিত ছিল। যদি কোনও ক্ষোভথাকে, তা হলে সেই জায়গাগুলি শুধরে নেওয়া দরকার। এটা তাড়াহুড়ো করার বিষয় নয়। টিসি দেওয়া এবং আটক করে হোমে পাঠানোর ফলে ওদের হিংসাত্মক আচরণের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ খারাপ করে দেওয়া হলো।'
জলপাইগুড়ি সিডব্লিউসির প্রাক্তন চেয়ারম্যান মান্না মুখোপাধ্যায়ের ব্যাখ্যা, 'সংবাদমাধ্যমের সামনে ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলি করা হচ্ছে, অর্থাৎ নাবালকদের মারধর করা কিংবা তাদের সঙ্গে অভব্য আচরণ- তা শিশুসুরক্ষা আইনের ৮২ এবং ৭৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। স্কুল কর্তৃপক্ষ চার ছাত্রকে টিসি দিয়েছেন। আবার পুলিশ তাদের আটক করেছে। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলি উঠেছে, সেটাও প্রশাসনের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।' পাশাপাশি ওই ছাত্ররা যাতে বিপথে চলে না-যায়, সেটাও সুনিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এ নিয়ে অবশ্য প্রধান শিক্ষক কোনও মন্তব্য করতে চাননি।