এই সময়: কংগ্রেসের পর দুই বিধানসভা কেন্দ্রের আসন্ন উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করল বামেরা। মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে সিপিএমের প্রার্থী আইনজীবী সৈয়দ আসাদ আলি। আর পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে সিপিআইয়ের প্রার্থী হয়েছেন শান্তিগোপাল গিরি। বামেদের তরফে এই দুই কেন্দ্রে আগেই প্রতীক এঁকে দেওয়াল লিখন শুরু হয়েছিল। মুর্শিদাবাদে শনিবার বিকেলে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সভা ছিল, সভার পর রাতে দুই কেন্দ্রের প্রার্থী ঘোষণা করে বামফ্রন্ট। সিপিআইয়ের শান্তি গিরি ক'মাস আগের বিধানসভা নির্বাচনেও নন্দীগ্রামে প্রার্থী হয়েছিলেন। রেজিনগরে সিপিএম প্রার্থী আসাদ যুব সংগঠনের নেতা।
বিধানসভা ভোটে বাম-কংগ্রেস আলাদা-আলাদা ভাবে লড়েছিল। সেই ধারা উপনির্বাচনেও অব্যাহত থাকায় সেলিম বলেন, 'বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস আমাদের সঙ্গে আসেনি। উপনির্বাচনেও কংগ্রেস শুক্রবার তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। প্রত্যেক দলের সেই স্বাধীনতা আছে। আমরা বিজেপি-বিরোধী সব শক্তিকে একজোট করার চেষ্টা করছি।'
রেজিনগরের কংগ্রেস প্রার্থী মহম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফি অবশ্য মনে করেন, সেখানে মূল লড়াই বিজেপি বনাম কংগ্রেসের। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য অধীর চৌধুরী কাফিকে প্রার্থী হিসেবে চেয়েছিলেন। কাফির কথায়, 'বিজেপিকে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করছি। হুমায়ুন কবীর আর ফ্যাক্টর নয়। ধর্ম নিয়ে বার বার ভোট হয় না। হুমায়ুন কবীরের ছেলের বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।'
হুমায়ুন পাল্টা বিঁধেছেন কংগ্রেসকে। আমজনতা উন্নয়ন পার্টির শীর্ষ নেতার কথায়, 'কংগ্রেস ২৯৪ কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়ে যে ভোট পেয়েছে, তা নোটার সঙ্গে তুলনীয়।' রেজিনগরে ইতিমধ্যে হুমায়ুনের ছেলে গোলাম নবি আজাদ আম জনতা উন্নয়ন পার্টির তরফে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী গত বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দাবি করেছেন, উপনির্বাচনের পরে বিজেপির আসন বেড়ে ২০৮ কিংবা ২০৯ হতে পারে। রেজিনগরে ভালো ফলাফল হবে বলে আশাবাদী তিনি। বিজেপির প্রার্থী যে কোনও দিন দিল্লি থেকে ঘোষিত হতে পারে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূল এবং বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী তৃণমূল-এই দুই শিবিরও দুই কেন্দ্রে প্রার্থী দেবে বলে ঘোষণা করেছে। প্রতীক, স্বীকৃতি নিয়ে নির্বাচন কমিশন কী রায় দেয়-আপাতত সে দিকে তাকিয়ে দুই শিবির।