• BRICS-এ নয়া কূটনৈতিক সেতু ভারত, একই মঞ্চে ইরান-UAE নেতারা, বরফ গলল কি?
    এই সময় | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • নয়াদিল্লিতে ১৮তম BRICS সম্মেলনকে শুধু অর্থনীতি বা বহুপাক্ষিক সহযোগিতার মঞ্চ হিসেবে নয়, পশ্চিম এশিয়ায় কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্র হিসেবেও ব্যবহার করছে ভারত। চলতি সংঘাতের আবহে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির শীর্ষ নেতৃত্বের মুখোমুখি বৈঠক সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টারই গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

    দিল্লিতে BRICS-এর পার্শ্ববৈঠকের ফাঁকে বৈঠক হলো ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং আবু ধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের। দুই দেশের মধ্যে চলতি পশ্চিম এশিয়া সংঘাতের কারণে যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই এই সাক্ষাৎ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। রয়টার্স-এর মতে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠকগুলির অন্যতম। যদিও বৈঠক থেকে কোনও নির্দিষ্ট সমঝোতার ঘোষণা হয়নি, তবু মুখোমুখি আলোচনার সুযোগ তৈরি হওয়াকেই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    এই বৈঠকের নেপথ্যে ভারতের কূটনৈতিক উদ্যোগ বিশেষভাবে নজরে এসেছে। BRICS-এর বর্তমান চেয়ারম্যান ভারত এমন একটি মঞ্চ তৈরি করতে চাইছে, যেখানে পরস্পরের সঙ্গে মতবিরোধ থাকা দেশগুলিও আলোচনার টেবিলে বসতে পারে। ইরান ও ইউএই—দুই দেশই BRICS-এর সদস্য। ফলে একই মঞ্চে তাদের উপস্থিতি দিল্লির কাছে সংঘাতের মধ্যেও সংলাপ চালু রাখার একটি সুযোগ তৈরি করেছে।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। সেখানে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা, জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা এবং নাবিকদের নিরাপত্তার মতো বিষয় উঠে এসেছে।

    অন্যদিকে, মোদী আবু ধাবির ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গেও বৈঠক করেন। ভারত-UAE কৌশলগত অংশীদারিত্বকে পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়। প্রতিরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, জ্বালানি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো ক্ষেত্রেও সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    ইরান ও UAE-সহ BRICS সদস্যরা দিল্লি ঘোষণায় পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সংযম ও কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা, সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলি নিরাপদ রাখার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

    ফলে দিল্লির BRICS সম্মেলনে ভারতের কূটনৈতিক বার্তাটি স্পষ্ট—ভারত কোনও পক্ষের হয়ে দাঁড়ানোর বদলে সংঘাতরত পক্ষগুলির মধ্যে যোগাযোগের পথ খোলা রাখতে চায়। ইরান-UAE বৈঠক সেই ‘ডিপ্লোম্যাটিক ব্রিজ’-এরই একটি উদাহরণ।

  • Link to this news (এই সময়)