• এল নিনিওর প্রভাবে ভারতে বাড়বে ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার উপদ্রব, সতর্কবার্তা দিলো WHO
    এই সময় | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • যত শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনিও, ততই উদ্বেগ বাড়ছে ভারতের আবহাওয়া এবং জনস্বাস্থ্য নিয়ে। এই আশঙ্কা করছে খোদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। এল নিনিও-র প্রভাবে আবহাওয়া পরিবর্তন হচ্ছে এবং তার জেরে ভারতে বাড়তে পারে ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ, গরমের জেরে অসুস্থতাও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও WHO সরাসরি বলেনি যে এল নিনিওর কারণে ডেঙ্গির প্রকোপ বাড়বেই। কিন্তু আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং বৃষ্টিপাতের প্যাটার্ন বদলে যাওয়ায় রোগ ছড়ানোর অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

    প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বদিকের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যাওয়া সংক্রান্ত জলবায়ুগত ঘটনা এটি। তবে এর প্রভাব শুধু প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আটকে থাকে না। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টিপাতের ক্যালেন্ডার, তাপমাত্রা বদলে যায়। যার সরাসরি প্রভাব পড়ে ঋতুচক্রের উপর।

    সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রকাশিত হয়েছে WHO-র Global Public Health Situation Analysis। সেখানে আশঙ্কা করা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে অগস্ট থেকে অক্টোবরের মধ্যে স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টি কম হতে পারে, তার সঙ্গেই বাড়তে পারে তাপমাত্রা। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের কারণেই জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে একাধিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। সেই সূত্রেই এসেছে ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের উদ্বেগ।

    ডেঙ্গি ছড়ায় মূলত এডিস ইজিপ্টাই মশার মাধ্যমে। বেশি তাপমাত্রা, বেশি আর্দ্রতা এবং বৃষ্টিপাত এই মশার বংশবিস্তার ও ভাইরাসের সংক্রমণে উপর প্রভাব ফেলে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি হলে মশার জীবনচক্র দ্রুত হতে পারে। বৃষ্টিপাতের ফলে জমার সম্ভাবনা বেড়ে যায় বলে মশার বংশবিস্তারেও ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। তবে এল নিনিওর প্রভাবে আবহাওয়াগত পরিবর্তন যেমন হয়, তেমনই তার সঙ্গে আরও একাধিক ফ্যাক্টর কাজ করে মশাবাহিত রোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে। নগরায়ন বেড়ে চলাও ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়া বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

    WHO-র সতর্কতার সময়েই দেশের কয়েকটি এলাকায় মশাবাহিত রোগের সংখ্যা বাড়ছে। NDTV-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে অগস্টে ৯০টি নতুন ডেঙ্গি আক্রান্তের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। চলতি বছরে এটিই ছিল এক মাসে সর্বোচ্চ সংখ্যা। ২৯ অগস্ট পর্যন্ত দিল্লিতে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৩০০ পেরিয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গেও ডেঙ্গির উপদ্রব নিয়ে চিন্তা বাড়ছে। এই পরিসংখ্যানকে সরাসরি এল নিনিওর ফল বলা না হলেও, আবহাওয়ার পরিবর্তন মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ানোর অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    WHO-র বক্তব্য অনুযায়ী, এল নিনিওর মতো জলবায়ুগত পরিবর্তন সরাসরি কোনও মশাবাহিত রোগের সংক্রমণ নিশ্চিত করে না। কিন্তু তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতার পরিবর্তনের ফলে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া এবং গরমজনিত অসুস্থতার জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হতে পারে। তাই আগাম নজরদারি, মশা নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো প্রস্তুত রাখার জন্য সওয়াল করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি বলেও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)