• ‘রামের সন্তান’ হিসেবেই তাঁর জিত, দাবি শুভেন্দুর
    আজকাল | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফের নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে দেশপ্রেম বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। নেতাজি ইন্ডোরে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেম ও সাংস্কৃতিক চেতনা জাগিয়ে তুলতে হবে। একদিকে আধুনিক শিক্ষা, অন্যদিকে গীতা ও হনুমান চালিশা পাঠ, তিলক পরা, তুলসী গাছে জল দেওয়া, শঙ্খ বাজানো এবং দীপদানের মতো পারিবারিক ও ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের আহ্বান জানান তিনি। আগামী প্রজন্মের মধ্যে এই সংস্কারের চর্চা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    শুধু তাই নয়, আগামী দিনে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। ধর্মান্তর রুখতে আইন আনার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    গত চার মাসে সরকারের বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। রথযাত্রা, শ্রাবণ মাসের জলাভিষেক, কাঁওড়িয়া যাত্রা এবং কালীঘাট থেকে তারাপীঠের কর্মসূচির উল্লেখ করেন তিনি। কাঁওড়িয়া যাত্রায় সরকারের হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টির কথাও বলেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, ভারতীয় সংস্কৃতি ও পরম্পরাকে সামনে রেখেই রাজ্য সরকার এই কর্মসূচিগুলি করছে।

    আগামী দিনের কর্মসূচির রূপরেখাও তুলে ধরেন তিনি। নভেম্বর মাসে কলকাতায় বড় আকারে হনুমান চালিশা পাঠ এবং ডিসেম্বর মাসে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে পাঁচ লক্ষ মানুষের গীতা পাঠের পরিকল্পনার কথা জানান। জানুয়ারিতে রামভদ্রাচার্যকে নিয়ে ১০০৮ কুণ্ডের বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠানের কথাও বলেন তিনি। পাশাপাশি গঙ্গাসাগর মেলাকে এ বার ‘আন্তর্জাতিক মেলা’ হিসেবে আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    আসন্ন দুর্গাপুজো নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা বলেন শুভেন্দু। এ বার রাজ্যে বড় আকারে দুর্গাপুজো হবে বলে জানান তিনি। মহালয়ার পর দেবীপক্ষের শুরুতে কোনও পুজোর উদ্বোধন করা হবে না বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। বাংলার নিজস্ব পরম্পরা মেনেই উৎসব পালনের উপর জোর দেন তিনি। অষ্টমীর দিন গোটা রাজ্যে মদ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কথাও ঘোষণা করেন।

    কলকাতায় রাম ও সনাতন ধর্মকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বার্তা দিতে গিয়ে বিরোধীদের নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে যুগ কবি ডঃ কুমার বিশ্বাস পরিবেশিত পবিত্র 'রাম কথা'য় অংশগ্রহণ করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “২০২৪ সালে অযোধ্যায় ৫০০ বছরের স্বপ্ন পূরণ করে রাম মন্দির উদ্বোধনের সময় একজন বিরোধিতা করে কলকাতা‍য় মিছিল করেছিল মনে আছে? সনাতনী জনতা তাঁকে ভবানীপুরে হারিয়ে দিয়েছে। 

    ভবানীপুরের নির্বাচনের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “যিনি রামের অপমান করবেন, জনতা তাঁকে শিক্ষা দেবে।” মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ভবানীপুরে তাঁকে সনাতনী মানুষজন জয়ী করেছেন। তিনি বলেন, “রামের বিরুদ্ধে যারা মিছিল করেছিল, তাদের টাটা, বাই-বাই করে দেওয়া হয়েছে।”

    বক্তব্যে নিজের জয়ের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভবানীপুরের মানুষ তাঁকে ‘রামের সন্তান’ হিসেবে জয়ী করেছেন। তাঁর দাবি, রামকে কেন্দ্র করে মানুষের আবেগকে যারা অসম্মান করবেন, তাঁদের রাজনৈতিকভাবে জবাব দিতে পারে সাধারণ মানুষ।

    কলকাতার সাংস্কৃতিক পরিচয় ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গেও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক শাসনে কলকাতা তার সাংস্কৃতিক পরিচয় হারিয়েছে। শহরকে ফের দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

    বঙ্কিমচন্দ্র চ্যাটার্জির ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রসঙ্গ তুলে মাদ্রাসাতেও তা চালু করার কথা বলেন শুভেন্দু। বাংলার মাটি স্বাধীনতা সংগ্রামী ও মুনি-ঋষিদের ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করে সেই ঐতিহ্য ও দেশপ্রেম পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    সব মিলিয়ে, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির পাশাপাশি ইউসিসি, ধর্মান্তর রোধ এবং নারী নিরাপত্তার মতো বিষয়কে সামনে রেখে আগামী দিনের সরকারের অবস্থান ও কর্মসূচির রূপরেখা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।
  • Link to this news (আজকাল)