আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলাদেশে হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর প্রসঙ্গ তুলে আবেগঘন মন্তব্য করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কেষ্টপুরে গণেশ পুজোর উদ্বোধনে গিয়ে তাঁর দাবি, চিন্ময় প্রভুর চোখের জল গোটা বিশ্বের সনাতনীদের হৃদয় নাড়িয়ে দিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “চিন্ময় প্রভুর চোখের জল পৃথিবীর সনাতনীদের হৃদয় নাড়িয়ে দিয়ে গেছে। আমি ওই চোখের জল দেখতে দেখতে ভাবছিলাম, আমরা যদি সেই দিন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বা স্বামী প্রণবানন্দের লড়াইয়ের মাধ্যমে ভারতের অন্তর্ভুক্ত না হতাম, তাহলে আজ আমাদের অবস্থাও হয়ত চিন্ময় প্রভুর মতোই হত।”
এর পরেই নিজের পরিবারের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমার নিজের জীবনেও সেই যন্ত্রণার অভিজ্ঞতা আছে।” দেশভাগের সময় তাঁর দাদুর হাত ধরে মায়ের পরিবারের সদস্যদের এপার বাংলায় চলে আসার প্রসঙ্গও তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে।
উল্লেখ্য, মায়ের শেষকৃত্যের জন্য মাত্র পাঁচ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিলেন ইসকনের প্রাক্তন নেতা চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। গত দু’বছর ধরে দেশদ্রোহিতা-সহ বিভিন্ন মামলায় জেলে রয়েছেন তিনি। চিন্ময়ের পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার (বাংলাদেশের সময়) দিকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঁয়া তাঁর প্যারোলে মুক্তির আদেশ দেন।
মারা যাওয়ার আগে ছেলের মুখটি একবার দেখতে চেয়েছিলেন চিন্ময়কৃষ্ণের মা সন্ধ্যারানি ধর। কিন্তু তাঁর শেষ আশা আর পূরণ হয়নি। সন্ধ্যারানি ধর বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রামের হাটহাজারির একটি হাসপাতালে মারা যান। মায়ের শেষকৃত্যে ছেলেকে উপস্থিত করার জন্য পরিবারের তরফে প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই পাঁচ ঘণ্টার প্যারোল মঞ্জুর হয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগেও তাঁর মা ছেলেকে দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময় প্যারোলের আবেদন মঞ্জুর হয়নি। ফলে মায়ের শেষ ইচ্ছাও পূরণ হয়নি। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার জন্য তাঁকে হাটহাজারীতে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। নির্ধারিত পাঁচ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে ফের জেলে ফিরে যেতে হয়। শেষ বিদায়ের মুহূর্তে আবেগে ভেঙে পড়েন তিনি। সেই দৃশ্যের ভিডিও ইতিমধ্যে সামনে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে জেলে ফেরার আগে চট্টগ্রামের পুণ্ডরিক ধাম মন্দিরে রাধাকৃষ্ণ মূর্তির চরণে হাত ছুঁয়ে অঝোরে কাঁদছেন চিন্ময়। তাঁর ভাই রঞ্জন কুমার ধর জানিয়েছেন, সন্ধ্যারানি ধরের শেষকৃত্য পুণ্ডরিক ধামেই সম্পন্ন হয়েছে।
২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে জেলবন্দি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ-সহ একাধিক মামলা চলছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নিরাপত্তার দাবিতে তিনি সরব হয়েছিলেন। তাঁর গ্রেপ্তারির পর বাংলাদেশে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়।