আফিম বলে ধর্ম প্রত্যাখ্যান করেছিল বামেরা: শুভেন্দু
আজকাল | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু ধর্মীয় পরম্পরা ও সংস্কৃতিকে অবহেলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গণেশ পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বাম আমল এবং পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন।
শুভেন্দুর দাবি, “৩৪ বছর ধর্মকে আফিম বলে কমিউনিস্টরা রাজত্ব করেছেন। আর ১৫ বছর বাংলাকে গ্রেটার বাংলাদেশ তৈরি করার চেষ্টা হয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, এই দুইয়ের পরিবর্তনের পর প্রায় ৫০ বছর পরে এমন একটি সরকার তৈরি হয়েছে, যারা ‘বহুজন সুখায়, বহুজন হিতায়’ নীতিতে বিশ্বাস করে।
বাম আমলে দুর্গাপুজো ও হিন্দু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে পঞ্জিকা, শাস্ত্র, পুরোহিত, মন্ত্রোচ্চারণ, ঘটস্থাপন, নিরঞ্জন, আরতি, পুষ্পাঞ্জলি, প্রসাদ এবং সাত্ত্বিকতার মতো বিভিন্ন ধর্মীয় রীতির উল্লেখ করেন তিনি।
বামপন্থী মতাদর্শের সমালোচনা করে শুভেন্দু বলেন, “আমরা ধর্ম মানি না, ধর্ম আফিম”—এই বক্তব্যের মাধ্যমে ধর্মকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। পুজোর মণ্ডপে স্বামী বিবেকানন্দ, রামকৃষ্ণ মিশন বা ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রকাশনা না থাকারও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, সেই সময় পশ্চিমবঙ্গ তৈরির ইতিহাস বা দেশভাগের ইতিহাস নিয়েও পর্যাপ্ত আলোচনা করা হয়নি।
পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে বাংলাকে ‘জামাতিকরণ’-এর চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন শুভেন্দু। দুর্গাপুজোর নিরঞ্জন নিয়ে পূর্বতন সরকারের একটি সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, মহরমের কারণে এক বছর বিজয়া দশমীর দিন প্রতিমা নিরঞ্জন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস ও হিন্দু সংস্কৃতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বাঙালি হিন্দুর স্বার্থে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং স্বামী প্রণবানন্দের ভূমিকা ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। সেই ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পরম্পরা ফিরিয়ে আনার কথা বলেন তিনি।
দেশভাগের প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। শুভেন্দু বলেন, “আমরা অবিভক্ত বাংলার মানুষ ছিলাম। বিভীষিকাময় দেশভাগ আমাদের অনেক ক্ষতি করেছে।” বাংলাদেশে হিন্দুদের পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, দেশভাগের সময় তাঁর পরিবারকেও ভিটেমাটি ছেড়ে এপারে চলে আসতে হয়েছিল। তিনি বলেন, শুধুমাত্র হিন্দু পরিচয়ের কারণে তাঁর মা বরিশাল থেকে তাঁর বাবার হাত ধরে এক কাপড়ে ভারতে চলে এসেছিলেন।