• একদিন জেলাশাসকের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাবে ‘প্রজ্ঞা দিদি’, বিশেষ উদ্যোগ ঝাড়গ্রামে
    এই সময় | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • বুদ্ধদেব বেরা

    বাল্যবিবাহ-র পাশাপাশি নাবালিকা বয়সে মা হওয়া বন্ধ করতে কড়া পদক্ষেপ করছে রাজ্য সরকার। সেই সময়েই বাল্যবিবাহ-সহ ছাত্রীদের বিভিন্ন সমস্যা মেটাতে বিশেষ উদ্যোগ নিল ঝাড়গ্রাম জেলা প্রশাসন। এই কাজে যুক্ত করা হচ্ছে স্কুলছাত্রীদেরকে। তাঁদের বলা হবে ‘প্রজ্ঞা দিদি’। তারাই স্কুল ছাত্রী এবং প্রশাসনের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করবে। এর মাধ্যমে ছাত্রী এবং এলাকার নানা সমস্যার কথা জেনে তা সমাধান করা যাবে বলে আশা করছেন আধিকারিকরা। যে ভালো কাজ করবে জেলাশাসকের সঙ্গে একদিন কাজ করার সুযোগ পাবে সে। জেলাশাসক যে ভাবে জেলা পরিচালনা করেন সেই কাজ সারাদিন করবে সেই ‘প্রজ্ঞা দিদি’।

    জানা গিয়েছে,এই কাজের জন্য কয়েক জন ছাত্রীকে বিভিন্ন স্কুলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারাই স্কুলের ছাত্রীদের নানা সমস্যার কথা সংগ্রহ করে জানাবে জেলা প্রশাসনকে। এর মাধ্যমে বাল্যবিবাহ, স্কুল ছুট এবং মহিলাদের উপর হওয়া নানা অত্যাচার রুখে দেওয়া সম্ভব হবে বলেও মনে করেছেন আধিকারিকরা। এই লক্ষ্য নিয়ে শুক্রবার, ঝাড়গ্রামে শুরু হয়েছে ‘প্রজ্ঞা দিদি’ কর্মসূচি।

    প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রথম পর্যায়ে ঝাড়গ্রাম ব্লক এবং ঝাড়গ্রাম পুরসভা এলাকার গার্লস এবং কোয়েট স্কুলগুলির একজন করে ছাত্রীকে ‘প্রজ্ঞা দিদি’ হিসেবে ঠিক দেওয়া হয়েছে। ঝাড়গ্রাম পশ্চিম ও পূর্ব চক্র এবং মানিকপাড়া চক্র মিলিয়ে মোট ৭৪ জন ছাত্রীকে ‘প্রজ্ঞা দিদি’ হিসেবে এদিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে জেলার প্রতিটি স্কুলে একজন করে প্রজ্ঞা দিদি থাকবে। তারাই স্কুল ছাত্রী এবং প্রশাসনের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করবে প্রজ্ঞা দিদিরা। ছাত্রীদের নানান সমস্যার কথা পৌঁছে দেবে প্রশাসনের কানে। সেই মতো করা হবে পদক্ষেপেও।

    গার্লস এবং কো-এড স্কুলের নির্দিষ্ট একটি ছাত্রীকে প্রজ্ঞা দিদি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে। তাঁর কাজ হল স্কুলের ছাত্রীদের নানান সমস্যার কথা সংগ্রহ করে তা জেলা প্রশাসনকে জানানো। প্রশাসনের দাবি, এই প্রজ্ঞা দিদিদের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ, স্কুল ছুট এবং নারীর উপর হওয়া নানা অত্যাচার রুখে দেওয়া সম্ভব।

    শুক্রবার ঝাড়গ্রাম জেলাশাসকের কার্যালয়ের অডিটোরিয়াম হলে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রজ্ঞা দিদির সূচনা করা হয়। রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে প্রজ্ঞা দিদির ব্যাচের সূচনা করেন রাজ্যের প্রাণী সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী রাজেশ মাহাতো, জেলাশাসক আকাঙ্ক্ষা ভাস্কর এবং পুলিশ সুপার মানব সিংলা। সেখানে ছিলেন জেলা প্রশাসনের অন্য আধিকারিকরাও।

    জেলাশাসক জানিয়েছেন, এই প্রজ্ঞা দিদিদের মধ্যে যে সবচেয়ে ভালো কাজ করবে একদিন তাকে তাঁর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘আগামী ছ'মাসের মধ্যে যে সবচেয়ে ভালো কাজ করবে তাঁকে একদিন আমার সঙ্গে রেখে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে। একজন জেলাশাসক কীভাবে জেলা পরিচালনা করে সে সারাদিন ধরে সেই কাজ করবে।’

    মঞ্চে শপথবাক্য পাঠ করানোর পাশাপাশি তাদের ‘প্রজ্ঞা দি’ নামে ব্যাচ-ও দেওয়া হয়।

  • Link to this news (এই সময়)