এই সময়: রাজ্যে পালাবদলের পরে বেসরকারি লগ্নির বহু প্রস্তাব এলেও, আবেদনকারী সংস্থার ব্যাকগ্রাউন্ড পরীক্ষা করে তবেই বিনিয়োগে ছাড়পত্র দেবে সরকার এবং যে সব সংস্থাকে নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তাদের কোনও ভাবেই ছাড়পত্র দেওয়া হবে না— শুক্রবার ফের এ কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার সল্টলেকের একটি শপিং মলে এক বিপণির উদ্বোধন করতে গিয়ে সরকারের এই নীতিগত সিদ্ধান্তের আরও একবার মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও জানান, বেসরকারি সংস্থার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকও রাজ্যে লগ্নি করবে। পূর্ব মেদিনীপুরের জুনপুটে তাদের জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিগগিরই তাদের পুরো পরিকল্পনার কথা সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হবে।
শুভেন্দু জানান, ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা (ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজে়শন বা ডিআরডিও) একটি প্রকল্প তৈরি করবে রাজ্যে। তাঁর কথায়, ‘ডিআরডিও-র তরফে পূর্ব মেদিনীপুর উপকূলের জুনপুটে একটি বড় প্রকল্প করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমি বিস্তারিত ভাবে পরে জানাব।’ বাম আমলে কাঁথি মহকুমারই হরিপুরে সৈকতে প্রস্তাবিত পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র করা যায়নি। তখন বাধা এসেছিল তৎকালীন বিরোধী তৃণমূলের থেকে। পরবর্তী সময়ে তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন হরিপুর থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে জুনপুটে ডিআরডিও-র ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ২০২৪–এ। শুভেন্দু বলেন, ‘প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে রাজ্যকে চিঠি পাঠানো হলেও, কোনও জবাব দেওয়া হয়নি। আমি এসে তাদের সেই চিঠির জবাব দিয়েছি। ওখানে বড় প্রকল্প হবে। তাকে ঘিরে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড হবে সেখানে।’
রাজনৈতিক পালাবদলের পরে রাজ্যের বিনিয়োগের ভাবমূর্তি বদলাতে উঠেপড়ে লেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিল্পায়নের বার্তা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। তবে শিল্প টানার ক্ষেত্রে অনিয়ম বা দুর্নীতিকে কোনওমতেই যে বরদাস্ত করা হবে না, তা এ দিন ফের স্পষ্ট করে দিয়েছেন শুভেন্দু। ওই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যে সমস্ত সংস্থা রাজ্যে বিনিয়োগ করতে আসছে, তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই সংস্থাগুলি দুর্নীতির টাকায় চলছে কি না, তা দেখা হচ্ছে। সংস্থার বিরুদ্ধে কোনও প্রতারণা বা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের মতো তদন্তকারী সংস্থার কাছে কোনও অভিযোগ রয়েছে কি না, তাও দেখা হচ্ছে।’
এ দিন পূর্বতন সরকারের শিল্প নিয়ে অনীহার প্রসঙ্গও তোলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘আমাদের রাজ্যে অনেকদিন ধরেই নানা কারণে বাণিজ্য ও শিল্পবান্ধব পরিবেশ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আমরা গত চার মাসে শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নানা অনুষ্ঠান করছি।’ শুভেন্দুর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে ঘটা করে শিল্পবাণিজ্য সম্মেলন হলেও বিনিয়োগ কার্যত আসেনি। তখন শুধুমাত্র ফটো সেশন হতো।
সেই ধারা বদলাতে বর্তমান সরকার প্রথমে জমির ব্যবস্থা, ব্যাঙ্ক ফিনান্স এবং পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্রের মতো নথি দেখার পরেই শিল্পসংস্থা ও ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়াচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গত পরশু আমার সঙ্গে অনন্ত আম্বানির কথা হয়েছে। অনন্ত এবং ওঁর বাবা মুকেশ আম্বানি এখানে লগ্নি করা নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন। ওঁরা আমাকে মুম্বইয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। গণেশ চতুর্থীর পরেই ওঁদের সঙ্গে দেখা করতে যাব।’