BRICS সামিটের ফাঁকেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁদের আলোচনায় উঠে এল পশ্চিম এশিয়ায় চলা সংঘাতের প্রসঙ্গ, উঠে এসেছে হরমুজ় প্রণালী তথা সমুদ্রপথের নিরাপত্তার প্রসঙ্গ। নয়াদিল্লিতে শুক্রবারের এই মিটিংয়ে সংঘাতের সমাধানে আলোচনা ও কূটনীতির উপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বরাবরই যে কোনও সংঘাতের সমাধানে আলোচনা ও কূটনীতির উপর জোর দিয়েছে ভারত। এ দিনের বৈঠকে ভারতের সেই অবস্থানের কথা ফের জানান প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনি জানান, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত বেড়ে চললে তার সরাসরি প্রভাব আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং অপরিশোধিত জ্বালানির উপর পড়বে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, মোদী আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টার উপর জোর দিয়েছেন।
বৈঠকে সমুদ্রপথে বাণিজ্যের সুরক্ষার প্রসঙ্গ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণের রুট হরমুজ় প্রণালী। ভারতও এর উপর নির্ভরশীল। বহু ভারতীয় কাজের সূত্রে পশ্চিম এশিয়ার নানা দেশে থাকেন। জাহাজকর্মী হিসেবেও কাজ করেন। আমেরিকা-ইরান যুদ্ধে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে এর উপর। কর্মসূত্রে ওই এলাকায় থাকা ভারতীয়দের জীবন সংশয়ের ঘটনাও ঘটেছে। এই বিষয়টি মাথায় রেখেই এর আগেও ইরানের সঙ্গে আলোচনায় মোদী হরমুজ় প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা এবং সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন। অগস্টে বিশকেকে সম্মেলনের ফাঁকে পেজ়েশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেছিলেন মোদী।
ভারত ও ইরানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়েও এ দিনের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্য থেকে শুরু করে পশ্চিম এশিয়ার সঙ্গে সামগ্রিক ভাবে ভারতের সম্পর্ক। চাবাহার বন্দর-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরানের সহযোগিতা ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।