‘বদলের চাকরি, বদলি হয়ে যান। অসুবিধা থাকলে চাকরি ছেড়ে দিন। ঝোলা নিয়ে হোলটাইমার হয়ে যান।’ যাদবপুর নিয়ে বামেদের বিঁধে অধ্যাপক বিল কেন প্রয়োজন তা তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ, বৃহস্পতিবার নয়া ‘অধ্যাপক বদলি’ বিল পেশ হয় বিধানসভায়। যা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সিপিএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রানা ও আইএসএফের নওশাদ সিদ্দিকি-সহ একাধিক বিরোধী বিধায়ক। এমনকী গৈরিকীকরণের চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন। এক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, ”বিরোধীরা বলছেন শিক্ষায় গেরুয়াকরণের চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু এই শব্দবন্ধ নিয়ে আপত্তি রয়েছে। আমরা এটা করব না। সিপিএম অনিলায়ন করেছিল। মমতা মমতায়ন করেছিল। আমরা তা করব না।” শুভেন্দুর অধিকারীর কথায়, ”এক শিক্ষানীতিতে রাজ্য চলবে। তাই শিক্ষাবিদদের যুক্ত করেছি। সমস্ত স্তরের ছাত্ররা সরকারি সাহায্য নিয়ে উচ্চশিক্ষায় প্রতিষ্ঠিত হবে সেটা চাই। তারা সমাজের দায়িত্ব পালন করুক।”
‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬’ পেশ হওয়ার পরেই কার্যত হৈহট্টগোল শুরু হয়ে যায় বিধানসভায়। তারপরেই বিরোধীদের জবাব দিতে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী। একদিকে কেন এই বিলের প্রয়োজন, তা তুলে ধরেন। পাশাপাশি যাদবপুর ইস্যুতে বামেদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”যাদবপুরে কিষেণজি রেড স্যালুট লেখা হচ্ছে। তিনি এক হাজারের বেশি নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছেন। জওয়ানদের হত্যা করা হয়েছে। ফ্রি প্যালেস্তাইন লেখা হচ্ছে। প্রফুল্ল চাকী, ক্ষুদিরাম, মাতঙ্গিনী হাজরা, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজ্যে এসব হতে দেব না।” এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, ”ভারত টুকরে হোঙ্গে লিখলেই আমরা তাদের টুকরো করে দেবো।”
পাশাপাশি এদিন জুটাকেও আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। কটাক্ষের সুরেই তিনি বলেন, ”জুটার লোকেরা কি করেছেন সব ইতিহাস আমার কাছে আছে। একশ্রেণির অধ্যাপক তথাকথিত বামপন্থীদের জামা গায়ে দিয়ে সনাতনীদের আক্রমণ করছেন। বেছে বেছে গেরুয়াকে টার্গেট করছেন। যা আমরা মেন নেব না। আমরা এইসব বিরাট বিরাট নেতাদের, যারা ইউনিভার্সিটিতে মার্কসবাদ, লেলিনবাদ, কৃষকের অধিকার শ্রমিকের অধিকার নিয়ে লড়াই করছেন তাদেরকে ব্যবহার করব। যাতে দুর্বল বিশ্ববিদ্যালয়গুলি আরও শক্তিশালী হয়।” এখানে যে কোনওভাবেই গৈরিকীকরণের চেষ্টা হচ্ছে না তাও এদিন স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
কী থাকবে এই বিলটিতে?
রাজ্যের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বদলি সংক্রান্ত যাবতীয় নির্দেশিকা থাকবে এই বিলে। যাঁরা দীর্ঘদিন কলকাতা বা অন্য বড় শহরের পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অধ্যাপনা করেছেন, তাঁদের নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতেও পড়াতে যেতে হবে। এই নীতি শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রেও কার্যকরী। স্বাভাবিকভাবে এই বিল শিক্ষামহলে বেশ সাড়া ফেলেছে। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয় হয় স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। তার ফলে শিক্ষক, আধিকারিক কিংবা শিক্ষাকর্মীরা সরাসরি সরকারি কর্মী নন। তাই স্বাভাবিকভাবে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এই বদলি কি পারস্পরিক সম্মতিক্রমে হবে নাকি সরকারের ইচ্ছামতো শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের বদলি করা হবে। ওই বিল আসার পর সমস্ত বিভ্রান্তি দূর হবে সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।