মুখ্যমন্ত্রীকে ‘গেরুয়া’ খোঁচা রানার, শুভেন্দুর পালটা, ‘গেরুয়াধারীরা কী অবস্থা করে দেখতে পাবেন’
প্রতিদিন | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিধানসভায় গেরুয়া তরজা! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে (Suvendu Adhikari) নিশানা একমাত্র বাম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানার (Mostafijur Rahaman)। অধ্যাপক বদলি বিল নিয়ে চর্চা চলাকালীন ডোমকলের বিধায়ক বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী গেরুয়া ধারণ করেছেন।” এরপরই পালটা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “তোষণের রাজনীতির জন্যই আজ আপনাদের এই অবস্থা। দেখবেন উপনির্বাচনে এই গেরুয়াধারীরা কী অবস্থা করে।
আজ বৃহস্পতিবার, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও শিক্ষাকর্মীদের বদলি সংক্রান্ত বিল পাশ হল বিধানসভায়। ১৭১ জন এর সমর্থন করেছেন। বিরোধিতা করেছেন ১৫ জন। ফলে এবার রাজ্যের যে কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলি করা যাবে অধ্যাপক ও শিক্ষাকর্মীদের। সরকারের দাবি, এই বিল পাশে শিক্ষার মান উন্নয়ন হবে। পড়ুয়ারাও উপকৃত হবে। কিন্তু এই যুক্তি মানতে নারাজ বিরোধীদের একাংশ। বিধানসভায় বিল সংক্রান্ত আলোচনায় অধিকাংশেরই দাবি, এটা আদতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকার হরণের চেষ্টা, যা বেআইনি।
কোন পদ্ধতিতে এতদিন নিয়োগ করা হত বিশ্ববিদ্য়ালয়ের অধ্যাপক ও শিক্ষাকর্মীদের? বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান। তার ফলে অধ্যাপক বা শিক্ষাকর্মী, কেউ-ই সরাসরি সরকারি কর্মী নন। তাঁরা সরকার পোষিত। ফলে অধ্যাপকদের নিয়োগের ক্ষেত্রেও সরাসরি সরকারের ভূমিকা ছিল না। তাঁদের নিয়োগ কর্তা উপাচার্য। এবার প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন কাঠামো থেকে শুরু করে পিএফ, ছুটি-সহ যাবতীয় নিয়ম আলাদা। সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের বদলি হয় না। অর্থাৎ যে অধ্যাপক বা কর্মী যে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন, তিনি জানেন সেখান থেকেই অবসরগ্রহণ করবেন। আর এখানেই শুরু হয় সমস্যা। এক জায়গায় বছরের পর বছর থাকার ফলে অধিকাংশক্ষেত্রেই আধিপত্য তৈরি হয়। যা পরবর্তীতে সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আবার কলকাতার যাদবপুর বা প্রেসিডেন্সির মতো ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন অনেক অধ্যাপক রয়েছেন যাদের সান্নিধ্য পেলে জেলার বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা বিশেষভাবে উপকৃত হবে। কিন্তু নিয়মের গেরোয় তা হয় না। সেই সব কথা ভাবনাচিন্তা করেই পেশ করা হল ‘বিশ্ববিদ্য়ালয় অধ্যাপক বদলি’ বিল। এই বিল পাশ হলে, বিষয় ও শূন্যপদের ভিত্তিতে বদলি করা যাবে অধ্যাপক ও শিক্ষাকর্মীদের।
তবে এতে সুবিধার থেকে অসুবিধাই বেশি বলেই দাবি মুস্তাফিজুর রানা-সহ বেশ কয়েকজনের। কারণ মোটের উপর স্পষ্ট, এভাবে ‘প্রতিবাদীদের’ সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এই বিল প্রসঙ্গে বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নিয়োগ করে না সরকার। তাঁর নিয়োগ কর্তা উপার্চায। এক একটি বিশ্ববিদ্য়ালয়ের ছুটির নিয়মও আলাদা। রয়েছে নিজস্ব আইন। একজন যিনি সরকারের নিন্দা করলেন, তাকে এমন জায়গায় পাঠানো হল সেখানে নিয়ম পুরো আলাদা। তাহলে তো সমস্যা।” একমাত্র বাম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রানার কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী গেরুয়া ধারণ করেছেন। এই বিল কতটা স্বাধীন সত্ত্বা বজায় রাখবে, তা প্রশ্ন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের বদলির কোনও নিয়ম নেই। মাঝপথে তো চাকরির শর্ত ভাঙা যায় না। এ বিল পাশ হলে নিয়োগের শর্ত ভাঙবে। যারা গবেষণার কাজে যুক্ত, সেই অধ্যাপকদের হঠাৎ করে ট্রান্সফার করে দিলে পড়ুয়াদের ক্ষতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে সরকারের হাতে নিলে তা বেআইনি।”
বিধায়ক রানার মন্তব্যের পালটা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “মুস্তাফিজুর রানা ও নওশাদ সিদ্দিকি বুঝতে পারছেন, এই বিলটা কোথায় আঘাত করবে। আমাদের দেখতে হবে ঋষি অরবিন্দের তৈরি যাদবপুরকে আমরা সেন্টার অব এক্সিলেন্স করব। হাজার কোটি টাকা দিয়েছে ভারত সরকার, রাজ্য ৩০০ কোটি দেবে। আর আপনারা জোর করে হস্টেল থেকে ছাত্রদের নিয়ে যাবেন? ওরা বলবে ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’? সবাইকে টুকরো করে দেব। সবকিছুর সীমা আছে একটা। ওরা বলে ‘রেড স্যালুট কিষেণজি’, একহাজার নিরিখ মানুষকে খুন করেছে কিষেণজি। যারা সমাজ বদল করতে চান, তাঁদের জন্য আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করে দেব। আপনারা সেখানে গিয়ে নিজেদের মেধা ব্যবহার করুন।”