• বৃহন্নলা সেজে ঘাপটি মেরে জলপাইগুড়িতে বাংলাদেশি! বাংলায় আইএসআইয়ের নয়া ছক?
    প্রতিদিন | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • গত কয়েকদিনে পাকচর সন্দেহে উত্তরবঙ্গ থেকে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে এসটিএস। ধৃতদের সঙ্গে বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের যোগ সামনে এসেছে। এবার তদন্তের গভীরে যেতেই পুলিশের হাতে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আজ, বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ির বৃহন্নলা কুঠিতে যৌথ তল্লাশি চালায় বিএসএফ এবং পুলিশ। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে পিপাসা বলে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, জলপাইগুড়িতে বসেই বাংলাদেশি সিম ব্যবহার করে নিয়মিত বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানে ফোন করতেন ধৃত। যদিও এই বিষয়ে আরও গভীরে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। দফায় দফায় ধৃতকে জেরা শুরু করেছেন তদন্তকারীরা। খতিয়ে দেখা হচ্ছে গুপ্তচরবৃত্তির বিষয়টিও। পাশাপাশি পাচারচক্রের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ আছে কি না, তাও তদন্তকারীদের রাডারে আছে বলে জানা যাচ্ছে।

    বেশ কিছুদিন ধরেই জলপাইগুড়ির এই এলাকা নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ আসছিল। এরপরেই এদিন ভোর থেকে উত্তর রায়কত পাড়ায় বৃহন্নলা কুঠিতে যৌথ অভিযান চালায় বিএসএফ এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। জানা গিয়েছে, সেখানকার একটি বাড়ি ঘিরে চলে তল্লাশি অভিযান। প্রায় কয়েকঘণ্টা ধরে চলে এই অভিযান। দীর্ঘ এই অভিযানে দু’টি আগ্নেয়াস্ত্র, তিন রাউন্ড গুলি, দু’টি ম্যাগাজিন উদ্ধার হয়। এমনকী একাধিক বাংলাদেশের সিম কার্ডও উদ্ধার হয়েছে বলে খবর। এরপরেই গুরুমা পিপাসাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে বলে খবর। পুলিশ সূত্রে খবর, সম্প্রতি পাকিস্তানেও গিয়েছিলেন পিপাসা। তবে কেন গিয়েছিলেন তা স্পষ্ট নয়। পুলিশ ও বিএসএফ সূত্রে আরও খবর, সম্প্রতি মনসা পুজোর আগে ও পরে প্রায় ৩৫ জন বাংলাদেশি বৃহন্নলা ওই এলাকায় আসেন। কেন এবং কী উদ্দেশ্যে তাঁরা এসেছিলেন, তাও তদন্তের আওতায়। 

    যদিও ধৃতের দাবি, এই বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। এমনকী কেন গ্রেপ্তার করা হল তাও জানেন না। তবে বাংলাদেশ কিংবা পাকিস্তান যোগ সম্পর্কে পিপাসার দাবি, কোনও দেশের সঙ্গে সম্পর্ক নেই তাঁর। এমনকী অভিযানে কোনও আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার হয়নি। বলে রাখা প্রয়োজন, গত কয়েকদিনে কোচবিহার-সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক জায়গা থেকে পাকচর সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতের সঙ্গে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের যোগাযোগের প্রমাণও পান তদন্তকারী আধিকারিকরা। জানা যায়, ধৃতরা বিভিন্ন ব্যক্তির নামে সিম তুলে তা আইএসআইয়ের হাতে পৌঁছে দিত। সেখানে বসে ওটিপি পাঠিয়ে তা অ্যাক্টিভ করা হতো। এরপরই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পৌঁছে যেত সীমান্তের ওপারে। এরমধ্যেই এদিনে পুলিশ ও বিএসএফের এই অভিযান যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)