৬৮ বছর বয়সে এসে প্রথম বার্ধক্য ভাতা পেয়েছেন বাবা। আর সেই ভাতা পাওয়ার পরই পৌরসভার গেটে ব্যানার টাঙিয়ে জনপ্রতিনিধি ও পৌরপিতাকে ‘শতকোটি প্রণাম’ জানালেন ছেলে। ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি ব্যানারের ভাষায় ফুটে উঠল দীর্ঘদিন ভাতা না পাওয়ার ক্ষোভ ও অভিমানের কথা। ঘটনাটি ঘটে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার রামজীবনপুর পৌরসভায়।
রামজীবনপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তাপস হোতা। তাঁর বাবা দ্বিজদার হোতা, বয়স ৬৮ বছর। তাপসের দাবি, বাবার বার্ধক্য ভাতার জন্য তৃণমূল পরিচালিত ওই পৌরসভায় দীর্ঘদিন ধরে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু এতদিন ভাতা মেলেনি। অবশেষে চলতি মাসে তাঁর বাবা প্রথমবার ১৫০০ টাকা বার্ধক্য ভাতার টাকা পেয়েছেন। আর সেই টাকা পাওয়ার পরই অভিনব কায়দায় নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে পৌরসভার গেটে ব্যানার টাঙান তাপস।
ব্যানারের শুরুতেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাণী “মানুষের প্রধান কর্তব্য তাকে এমনটি হতে হবে, যাতে তাকে মানুষ বলে স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যায়।” এরপর লেখা হয়, “৬৮ বছরের বাবার বার্ধক্য ভাতা করে দেওয়ায় সকল জনপ্রতিনিধি ও পৌরপিতাকে জানাই শতকোটি প্রণাম ও অসংখ্য ধন্যবাদ।” শেষে রয়েছে ‘নমস্কারান্তে তাপস হোতা’।
তাপসের বক্তব্য, দীর্ঘদিন আবেদন-নিবেদনের পরও বাবার ভাতা হয়নি। সরকার পরিবর্তনের পর চলতি মাসে তাঁর বাবা প্রথমবার ১৫০০ টাকা ভাতা পেয়েছেন। তাই একদিকে যেমন তিনি জনপ্রতিনিধি ও পৌর কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান, অন্যদিকে নিজের ক্ষোভও প্রকাশ করেন। শুধু ব্যানার টাঙিয়েই থেমে থাকেননি তাপস। জানা গিয়েছে, এদিন তিনি পৌরসভার কর্মীদের মিষ্টিমুখও করান। তাঁর এই অভিনব উদ্যোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই এলাকায় কৌতূহল তৈরি হয়েছে। পৌরসভার গেটে টাঙানো ব্যানারের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, সরকারি ভাতা পাওয়ার পর সাধারণত মানুষ যেখানে স্বস্তি প্রকাশ করেন, সেখানে তাপসের ‘শতকোটি প্রণাম’-এর ব্যানারটি খানিকটা অন্যরকম। ধন্যবাদ, ব্যঙ্গ ও দীর্ঘদিনের অপেক্ষার ক্ষোভ তিনটিই যেন মিশে রয়েছে ওই কয়েকটি লাইনে। তবে বার্ধক্য ভাতা পেতে তাঁর বাবার কেন এতদিন সময় লেগেছে, আবেদনগুলির ক্ষেত্রে কোনও প্রশাসনিক জটিলতা ছিল কি না, কিংবা ভাতা মঞ্জুরিতে কোনও নির্দিষ্ট কারণেই বিলম্ব হয়েছিল কি না তা নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি।