পুজো হচ্ছে বাগবাজারে, কাটল জট, শুক্র থেকেই প্যান্ডেল নির্মাণ শুরু
আজ তক | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এই পুজোর প্রতিমার মুখ না দেখে বাঙালির উৎসব শুরু হয় না। আবার দশমীতে সিঁদুর খেলতে এই মণ্ডপেই ছুটে আসেন সকলে। ঐতিহ্যবাহী সেই বাগবাজার সর্বজনীনের পুজো বন্ধ হতে বসেছিল। মামলা গড়িয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত। অবশেষে মিলল স্বস্তি। কমিটির পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হল, পুজো হবেই।
কী নিয়ে দ্বন্দ্ব বাগাবাজারে?
১০৮ বছরের পুরনো দুর্গাপুজো বাগবাজার সর্বজনীনের। চিরাচরিত সাবেকি প্রতিমার টানেই প্রতি বছর হাজার হাজার দর্শনার্থী এই মণ্ডপে ভিড় জমান। কিন্তু সেই পুরনো পুজো কমিটি নিয়েই দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল।
১৯১৯ সালে শুরু হওয়া ৫৫ নম্বর বাগবাজার স্ট্রিট নেবুবাগান বারোয়ারি দুর্গাপুজোয় একটা সময়ে কমিটির সভাপতি হয়েছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। স্বদেশী আন্দোলনের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আশ্রয়ের বন্দোবস্ত করা হয়েছিল এই ক্লাবে। আবার তৃণমূল আমলে এই পুজোর সঙ্গে নানা ভাবে জড়িত ছিলেন শশী পাঁজা, অতীন ঘোষের মতো রাজ্যের তৎকালীন নেতামন্ত্রীরা। এবার রাজ্যে পালাবদল ঘটেছে। ফলত এবারের পুজোয় কমিটি কাদের নিয়ে তৈরি হবে, তা ঘিরেই জটিলতা সৃষ্টি হয়। মামলায় গড়ায় কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত।
হাইকোর্টের কী নির্দেশ ছিল?
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, গত রবিবার সাধারণ সম্পাদক এবং ৪ জন সদস্য নির্বাচনে ভোটাভুটি হয় বাগবাজার সর্বজনীনে। আদালত নিযুক্ত ২ পর্যবেক্ষণের নদরদারিতেই হয় এই ভোট। মোট ভোটার ছিলেন ৭৭ জন। তার মধ্যে ৬৬ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বাকিরা ভোটদানে বিরত ছিলেন। সাধারণ সম্পাদকের হয়ে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ২ প্রার্থীই ৩৩টি করে ভোট পান। ফলে নিষ্পত্তি সম্ভব হয়নি।
এক প্রার্থী গৌতম নিয়োগী হাইকোর্ট নিযুক্ত পর্যবেক্ষকদের পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিযোগ তোলেন। আবার ভোটের সময়ে অশান্তি হয়েছিল বলেও ক্লাবের এক মহিলা সদস্যর অভিযোগ ছিল। ফলত সমাধান সূত্র বের হওয়ার বদলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।
কীভাবে ফাঁড়া কাটল?
কলকাতা হাইকোর্টের রায়েই বাগবাজার সর্বজনীন পুজো কমিটির জটিলতা কেটেছে। পুজোর ম্যানেজিং কমিটির সদস্য তরুণ দেবনাথ জানিয়েছেন, কোর্টের রায়ের কপি হাতে পেলেই গঠিত হবে ১১ সদস্যের একটি কমিটি। বৃহস্পতিবারই এই নতুন কমিটি বৈঠকে বসবে। ইতিমধ্যেই প্রতিমার বরাত দেওয়ার প্রস্তুতিও হয়ে গিয়েছে। শুক্রবার থেকে মণ্ডপ তৈরির কাজও শুরু হওয়ার কথা। ফলে অনিশ্চয়তা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত ১০৮ বছরের এই পুরো ঐতিহ্যবাহী বাগবাজার সর্বজনীনে প্রতিবারের মতোই সাড়ম্বরে দুর্গাপুজো হবে।