এই সময়: ভারতের আয়োজনে নয়াদিল্লিতে শনিবার ফের বসতে চলেছে দু'দিনের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। তার ঠিক আগে 'টক অফ দ্য টাউন'-চিনা প্রেসিডেন্ট আদৌ আসছেন তো? একাধিক মিডিয়ার দাবি, শনিবার যদি না-ও হয়, রবিবার নিশ্চিত ভারত মণ্ডপমে দেখা যাবে শি জিনপিংকে। অন্য একাধিক সূত্রে আবার দাবি, সম্মেলন আয়োজনের জন্য ভারতকে নৈতিক সমর্থন জানালেও তাদের হয়ে কে প্রতিনিধিত্ব করবেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা জিইয়ে রেখেছে বেজিং।
বাণিজ্য, প্রযুক্তি, জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শুরু করে ডি-ডলারাইজেশনের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অ্যাজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হবে এ বারের ব্রিকস-বৈঠকে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কী আসছেন, তা নিশ্চিত। ব্রিকস এর মূল বৈঠকের আগেই নরেন্দ্র মোদীর ল সঙ্গে আলাদা করে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এত বসার কথা তাঁর। আপাতত চিন্তা শুধু চিনকে নিয়ে।
চিন্তাটা শুধু জিনপিংয়ের অংশগ্রহণ নিয়ে নয়। বরং বহুমাত্রিক। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের দাবি, চিনের সঙ্গে ভারতের সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ বার হিমালয়ের ভঙ্গুর অবস্থা তথা সার্বিক বাস্তুতন্ত্র নিশ্চিত ভাবে গুরুত্ব পাবে। একইরকম গুরুত্ব পাবে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যও। ব্রিকসংকে ভারত পশ্চিমবিরোধী জোট হিসেবে দেখতে চায় না। বরং পশ্চিমের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেও গ্লোবাল সাউথ ও উন্নয়নশীল বিশ্বের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে চায়। ওয়াকবিহাল মহলের একাংশের দাবি, সীমান্ত সমস্যা নিয়ে টানাপড়েন থাকা সত্ত্বেও দ্বিপাক্ষিক তা অর্থনৈতিক সম্পর্ক ভারত ফের মজবুত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে চলছে পরোক্ষে চাপ বাড়ানোর চেষ্টাও। চিনের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কী কী প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেছে না কেন্দ্র। চিনের সঙ্গে সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক নয় বৈঠকেও উঠে আসতে পারে বলে র মনে করা হচ্ছে।
চিনকে নিয়ে চিন্তা মূলত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্য ও প্রযুক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে এসে দেশের বিধিনিষেধ এবং পদ্ধতিগত জটিলতা রেয়ার আর্থ মিনারেল সহ একাধিক প্রযুক্তিগত কাঁচামাল আমদানি করার ক্ষেত্রে ভরপুর ছাড়পত্র চায় নয়াদিল্লি একইসঙ্গে নয়াদিল্লির দাবি, ভারতীয় বিনিয়োগের উপরেও বসানো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করুক চিন ক্রিটিকাল টেকনোলজি এবং স্পেশালাইজ়ত কম্পোনেন্ট পাঠানো চিন বন্ধ রেখেছে বলে শিল্পক্ষেত্রে ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে ভারতকে। চলতি মাসেই ভারতে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত বৈঠক করেন ভারতের বাণিজ্যসচিব রাজেশ আগরওয়ালের সঙ্গে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয় বলে চিনের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে।
দু'দেশের বাণিজ্যেও কিছুটা অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে চিনে ভারতের রপ্তানি গত বছরের তুলনায় ২৮ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ৫.৫৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে একই সঙ্গে চিনা বিনিয়োগ ও সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে নিজেদের কিছু বিধিনিষেংও শিথিল করেছে ভারত।
চিনের সঙ্গে সম্পর্ক ফেরানোটা এই মুহূর্তে অবশ্যই বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এবারের ব্রিকস-বৈঠকে আরও নানাবিধ ইস্যুতে গ্লোবাল সাউথ তথা উন্নয়নশীল বিশ্বের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে চায় নয়াদিল্লি। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের দাবি, গ্লোবাল সাউথের স্বার্থরক্ষার পাশাপাশি রাষ্ট্রপুঞ্জ, আইএমএফ, বিশ্বব্যাঙ্ক-সহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে সংস্কার-প্রস্তাব পেশও এবার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ভারতের