• ‘রয়’ আর ‘রে’ সুমিতই, দাবি সুপ্রিম কোর্টে, সওয়াল এসজি-র
    এই সময় | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • এই সময়, নয়াদিল্লি: নিজের নামের পদবির বানানকে হাতিয়ার করে রাজ্য পুলিশের জেরায় করা গুরুত্বপূর্ণ সব প্রশ্ন এড়িয়ে যাচ্ছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে জমি প্রতারণা এবং ডেবরায় নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত সুমিত রায়— বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এমনই দাবি করলেন রাজ্য সরকারের হয়ে সওয়াল করা সলিসিটর জেনারেল (এসজি) তুষার মেহতা।

    বুধবার শীর্ষ আদালতে তাঁর দাবি, তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিএ সুমিতকে ধারাবাহিক ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সিআইডি৷ কিন্তু আদালতের নির্দেশ মেনে সিআইডির তলবে তিনি হাজিরা দিলেও পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন না— সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের সামনে আরও একবার এই অভিযোগ করেন মেহতা৷ তাঁর দাবি, সুমিতকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করা একান্ত প্রয়োজন৷

    মেহতার অভিযোগ, শালবনিতে সরকারি জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে মিউটেশন করিয়ে বেআইনি ভাবে বিক্রি করায় সুমিতের ভূমিকা রয়েছে। জমির দালালরা সুমিতের নাম বলেছেন। একদিনে নিজের অ্যাকাউন্টে ৭১ লক্ষ টাকা জমা দিয়েছেন সুমিত৷ বিভিন্ন সময়ে আলাদা আলাদা ভাবে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যাঙ্কে জমা করেছেন তিনি। টাকা জমা দেওয়ার ব্যাঙ্ক স্লিপও তদন্তকারীদের কাছে রয়েছে বলে সওয়াল করেন এসজি। এরপরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ তোলেন মেহতা।

    তিনি বলেন, ‘ব্যাঙ্কের রেকর্ডে কোনও জায়গায় লেখা ‘সুমিত রে’ (RAY)৷ আবার কোথাও নামের বানান লেখা হয়েছে ‘সুমিত রয়’ (ROY)৷’ তাঁর অভিযোগ, পদবির এই বানান দেখিয়ে দুই ব্যক্তি এক নয় বলে দাবি করে বিভিন্ন প্রশ্ন এড়াচ্ছেন সুমিত। যদিও তদন্তে উঠে এসেছে, ব্যাঙ্ক থেকে প্যান কার্ড নম্বর দেখে জানা গিয়েছে, ‘সুমিত রে’ এবং ‘সুমিত রয়’ একই ব্যক্তি। এ দিন পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের পূর্ণাঙ্গ ট্রানস্ক্রিপ্ট জমা দিয়ে তুষার মেহতা জানান, প্রয়োজনে জিজ্ঞাসাবাদ পর্বের ভিডিয়ো রেকর্ডিংও জমা দিতে পারেন তিনি। এই প্রসঙ্গেই এসজি মেহতার সওয়াল, ‘আমরা তাঁকে (সুমিত) এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাই যে, প্রকৃত টাকার অঙ্কটা কি এটাই? সব মিলিয়ে জমা দেওয়া টাকার পরিমাণ প্রায় ১৫ কোটি টাকার মতো। মনে হচ্ছে, এটি প্রকৃত দুর্নীতির হিমশৈলের চূড়ামাত্র। আমার মতে, এই ব্যক্তিকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অধিকার আমাদের রয়েছে।’

    যদিও এই অভিযোগ খারিজ করে সুমিতের তরফে সওয়াল করা বর্ষীয়ান আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন বলেন, ‘যে নগদ টাকা জমার কথা বলা হচ্ছে সেটা ঠিক নয়৷ সর্বশেষ টাকা জমা হয়েছে ২০১৫–তে৷’ পাল্টা মেহতার অভিযোগ, চলতি বছরের জুনে জমা হয়েছে ৭১ লক্ষ টাকা৷ আজ বৃহস্পতিবার ফের এই মামলার শুনানি হবে৷ সুমিতকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রসঙ্গে বিদ্রোহী তৃণমূলের মুখপাত্র ঋজু দত্তের অভিযোগ, ‘শুধু সমন, হাজিরা হচ্ছে। তারপরে বাড়িতে গিয়ে ঘুমোচ্ছে। রাজ্য সরকার যদি সুমিত রায় সম্পর্কে এত তথ্য দিয়ে থাকে আদালতে, তা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না কেন?’

  • Link to this news (এই সময়)