• টাকা আছে, মাটি নেই, বাংলার ক্রিকেটে নতুন সমস্যা, ভুগছে জেলাগুলিও
    এই সময় | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • রূপক বসু

    টাকা মাটি, মাটি টাকা! ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের এই বাণী অমর হতে পারে। তবে বাংলার ক্রিকেটে এখন হাতে টাকা থাকলেও মাটির আকাল!

    সেই আকালেই আসন্ন ক্রিকেট মরশুমে মাঠ, পিচ কিছুই বানানো যাচ্ছে না। যার ফলে ফাঁপরে পড়েছে বাংলা ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা সিএবি। আরও স্পষ্ট করে বললে, সিএবির অধীনে থাকা ক্লাবগুলি। এ সমস্যা শুধু কলকাতা ময়দানে বা ময়দানের ক্লাবগুলিতেই থেমে নেই। যাঁরা কোচিং ক্যাম্প চালান, তাঁদেরও এক দশা। কলকাতা ময়দানের সীমানা ছাড়িয়ে মাটি–সঙ্কট ছড়িয়ে পড়েছে জেলাতেও। ঘটনা হলো, দুর্গা প্রতিমা যাঁরা গড়েন, তাঁদের অনেকেও একই সমস্যায় পড়েছিলেন।

    প্রশ্ন হলো, কেন এই সমস্যা? যা জানা যাচ্ছে, রাজ্যের নতুন সরকারের নীতি অনুযায়ী, এখন যেখান সেখান থেকে যে কেউ মাটি কাটতে পারবেন না। ক্রিকেট মাঠ তৈরির মাটি আসে মূলত ক্যানিং, বারুইপুর–সহ দক্ষিণ ২৪ পরগনার নানা জায়গা থেকে। এখন নতুন সরকারি নীতিতে মাটির জোগান কমেছে। ফলে পর্যাপ্ত পরিমাণ মাটি আসছে না। যা মাটি আসছে, সে মাটির মান তেমন ভালো নয়। মাটি কিনে ময়দানের ক্লাবগুলিকে সরবরাহ করে সিএবি। তাদের কাছেও পর্যাপ্ত মাটি আসছে না। যা আসছে, তার মানও তেমন ভালো নয় বলেই দাবি সিএবি আধিকারিকদের। এক কর্তার কথায়, 'দু'জন কন্ট্রাক্টর মাটি নিয়ে এসেছিলেন, তার মান ভালো নয় বলেই ফেরত পাঠানো হয়েছে।'

    সোজা কথায়, মাঠ তৈরিতে দেরি হয়ে যাচ্ছে। সিএবির প্রধান কিউরেটর সুজন মুখোপাধ্যায় এ কথা মেনে নিয়েও বলছেন, 'এমনিতে এখন বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে মাঠ তৈরি ব্যাহত হতোই। এখন দেরি হলে আর কী করা যাবে? আমাদের একটু বেশি পরিশ্রম করতে হবে।'

    আর্থিক সমস্যা নেই সিএবির। কিন্তু জেলায় যাঁরা ক্লাব চালান, তাঁদের ক্ষমতা সীমিত। বাড়তি টাকা খরচ করে, 'ম্যান–পাওয়ার' বাড়িয়ে কাজ করিয়ে নেওয়ার সামর্থ্য কোথায় তাঁদের? উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সংস্থার এক সভায় নতুন সচিব শীলভদ্র দত্তকে এই সমস্যার কথা জানিয়েছেন বিভিন্ন ক্লাবের প্রতিনিধিরা। যা খবর, এর সমাধানে লিখিত ভাবেই আবেদন জানাচ্ছে বিভিন্ন ক্লাবগুলো।

    ময়দানে বিভিন্ন কোচিং ক্যাম্পের মাঠ তৈরি নিয়েও ঘোরতর সমস্যা। খুদে ক্রিকেটারদের ভবিষ্যতও প্রশ্নের মুখে। একটি ক্যাম্পের সদস্য বলছেন, 'সিএবির মতো অত টাকা দিয়ে হয়তো বেস্ট কোয়ালিটির মাটি কিনতে পারি না আমরা। একটু কম কোয়ালিটির মাটি দিয়ে কাজ চালিয়ে দিই। এখন সিএবি–ই যদি সেরা কোয়ালিটির মাটি না পায়, আমাদের তো তা হলে আরও খারাপ অবস্থা হবে। সবচেয়ে বড় কথা, সময়ও চলে যাচ্ছে। আখেরে কিন্তু ক্রিকেটেরই ক্ষতি হচ্ছে।'

    এক কথায়, হাপিত্যেশ করে বসে বাংলার ক্রিকেট।

    হাতে টাকা, কিন্তু মাটি নেই!
  • Link to this news (এই সময়)