• জিএসটি, বিদ্যুতে ছাড় দিয়েই কি শিল্পে ইনসেনটিভ, ‘ল্যান্ড পুলিং’ নিয়েও জারি আলোচনা
    এই সময় | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • বঙ্গে বিনিয়োগের পরিবেশকে আরও শিল্পবান্ধব করতে 'ইনসেনটিভ পলিসি' ঘোষণা করবে রাজ্য, এ কথা আগেই জানিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার। কিন্তু তৃণমূল জমানায় ইনসেনটিভ বাবদ বকেয়া প্রায় ১৮ হাজার কোটির বোঝা সামলে কী ভাবে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা যাবে, সেটাই এখন সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় চিন্তা।

    নবান্ন সূত্রের দাবি, শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীদের জন্য ইনসেনটিভ দেওয়া হলেও সেটা তৃণমূল জমানার প্রথম দিকের মতো ঢালাও হবে না। কী ধরনের শিল্প, বিনিয়োগের প্রকৃতি, মোট অঙ্কের পাশাপাশি কত স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে, সব বিবেচনা করেই ইনসেনটিভ নির্ধারিত হবে। প্রাথমিক ভাবে ইনসেনটিভ হিসেবে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের বিদ্যুতে কতটা ছাড় দেওয়া যায়, সে ব্যাপারে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে বিদ্যুৎ দপ্তরকে। স্টেট জিএসটি খাতে কতটা ছাড় দেওয়া যায়, সেটা দেখতে বলা হয়েছে অর্থ দপ্তরকে। শিল্পের জন্য জমি কেনা বা লিজ়ের ক্ষেত্রে স্ট্যাম্প ডিউটিতে কী সুবিধে দেওয়া যায়, তা-ও অর্থ দপ্তর বিবেচনা করছে।

    সূত্রের খবর, শিল্পের জন্য ল্যান্ড ব্যাঙ্কের কথা তৃণমূল জমানায় বলা হলেও বাস্তবে তার হদিশ মেলেনি। পশ্চিমবঙ্গের মতো জনবহুল রাজ্যে শিল্পের জন্য একলপ্তে জমি পাওয়া কঠিন বুঝে সরকার 'ল্যান্ড পুলিং'য়ের প্রস্তাবও বিবেচনা করছে।

    সেটা কী? ‍নবান্নের এক কর্তা জানান, সম্ভাব্য শিল্পের জন্য বেসরকারি জমি মালিকের কাছ থেকে সরকারই যাতে বাজার দরে জমি কিনে ডেভেলপ করে শিল্পকেন্দ্রিক পরিকাঠামো গড়ে বিনিয়োগকারীর হাতে তুলে দিতে পারে, সেটাই 'ল্যান্ড পুলিং'। সে ক্ষেত্রে ওই জমি বিনিয়োগকারীকে হস্তান্তরের পরে তার ৯০ শতাংশে শিল্প গড়ে তোলা হবে। বাকি ১০ শতাংশে শিল্পের সহায়ক ব্যবসার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে জমির মালিককে। এতে জমিদাতারা আকৃষ্ট হবেন, কাজের সুযোগের নিশ্চয়তা বাড়বে।

    নবান্ন সূত্রের খবর, পুজোর আগেই শিল্পনীতি ঘোষণার তোড়জোড় চলছে। তারপরে ধাপে ধাপে ইনসেনটিভ পলিসি, ল্যান্ড পুলিং ও ল্যান্ড ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত পলিসি ঘোষণা হতে পারে। শিল্প দপ্তরের কর্তাদের বক্তব্য, বাম ও তৃণমূল জমানায় কয়েকটি শিল্প গোষ্ঠী বড় বিনিয়োগের নামে বৃহৎ পরিসরের জমি নিলেও সেখানে কারখানা হয়নি। ওই জমিগুলি ফিরিয়ে নেওয়ার আইনি পথ খোঁজা হচ্ছে।

    সম্ভাব্য বিনিয়োগকে সামনে রেখে দক্ষ কর্মী তৈরিতে ট্রেনিংয়ের বিষয়টিও বিবেচনা করছে রাজ্য। নবান্নের এক কর্তা বলেন, 'তৃণমূল সরকার বিনিয়োগ আনার নামে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা খরচ করে বেঙ্গল গ্লোবাল বিজ়নেস সামিট করেছে। কিন্তু ২০২৪–এ শিল্পে ইনসেনটিভ পলিসি আইন করে বন্ধ করে দেয়। ওই সরকারের প্রতিশ্রুতি মতো বিনিয়োগ করেও ইনসেনটিভ না পাওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারী কোর্টে গিয়েছেন। তাঁদের প্রাপ্যের অঙ্ক প্রায় ১৮ হাজার কোটি। এখন ফের ইনটেনসিভ পলিসি ঘোষণা করতে হলে তৃণমূল জমানার আইন প্রত্যাহার এবং মামলাগুলির নিষ্পত্তি করতে হবে। এই আইনি জটিলতা কাটানোর জন্যই বাড়তি সময় নেওয়া হচ্ছে।'

    শিল্পনীতি তৈরির জন্য শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়ের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিগোষ্ঠী ক'দফায় বৈঠক করেছে। বিদ্যুৎ ও অর্থ দপ্তরের থেকে প্রাথমিক রিপোর্ট পেলে ইনসেনটিভ নীতির রূপরেখা চূড়ান্ত করতে ফের বৈঠক হতে পারে। এ নিয়ে বুধবার শিল্পমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য, 'এখনই কিছু বলব না। সময়ে সব বিস্তারিত জানানো হবে।'
  • Link to this news (এই সময়)