• লালবাজারের 'অপারেশন', বাংলাদেশ থেকে ঘরে ফিরল মেয়ে
    আজকাল | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: চাকরির খোঁজ পেয়ে উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুর থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন মধুমিতা মিস্ত্রি মণ্ডল। তারপর হঠাৎ ফোন বন্ধ, কোন যোগাযোগ ছিল না। ১৭ দিন (১৮ জুলাই) পর ভাইয়ের মোবাইলে এল একটি ফোন আসে। বাংলাদেশের নম্বর (+৮৮) থেকে। ক্ষীণ গলায় বোনের আর্তনাদ, ফোনের ওপার থেকে মহিলা বলছেন, "ভাই, আমি গোপালগঞ্জের হাসপাতালে। চাকরির কথা বলে আমাকে বাংলাদেশে নিয়ে চলে এসেছে"। 

    এরপরই কলকাতা পুলিশের লিখিত অভিযোগ জানায়। 

    মধুমিতার ভাই দীপঙ্করের বক্তব্য, দিদি ঠিক করেন- তিনিও অর্থ উপার্জন করতে কাজ করবেন। ভাইকে জানান, তাঁর সঙ্গে সমাজমাধ‍্যমে এক ব‍্যক্তির আলাপ হয়েছে। ওই ব‍্যক্তি মধুমিতাকে একটি ওয়ার্কশপে কাজ দেওয়ার কথা জানান। তবে পশ্চিমবঙ্গে নয়, সুদূর তামিলনাড়ুতে। মোটা টাকা বেতন দেবে বলেও জানিয়েছিলেন দিদি। সেখানে কাজ করতে যাওয়ার জন‍্য রাজি হন মধুমিতা। ১ জুলাই মধুমিতা গালিফ স্ট্রিটের বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন তামিলনাড়ুর উদ্দেশে। এরপর ১৭ দিন পরে তার কাছে দিদির ফোন আসে। 

    ভাই দীপঙ্করের অভিযোগের ভিত্তিতেই কলকাতা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। অবশেষে পুলিশ নিঁখোজ মধুমিতার খোঁজ পায়। প্রায় দু'মাস পর নিখোঁজ মধুমিতাকে ফিরিয়ে আনা হয় কলকাতায়।

    নিখোঁজ মহিলা মধুমিতা মিস্ত্রি মণ্ডল বুধবার সকালে (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ঘোজাডাঙা আউটপোস্টে পৌঁছন। তাঁকে বাংলাদেশের খুলনায় অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের আধিকারিক শ্রী পবন কুমার এবং সেকেন্ড সেক্রেটারি (ভিসা) শ্রী চন্দ্রজিৎ মুখার্জি ইমার্জেন্সি সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে তাঁর ভাই দীপঙ্কর মিস্ত্রির হাতে তুলে দেন। 

    এই সময় উপস্থিত ছিলেন ঘোজাডাঙায় বিএসএফের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট শ্রী সুজিত কুমার, বসিরহাট থানার এএসআই গোপাল মণ্ডল এবং কলকাতা পুলিশের ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্টের অ্যান্টি হিউম্যান ট্রাফিকিং ইউনিটের সদস্যরা।

    প্রাথমিক প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর মধুমিতা মিস্ত্রি মণ্ডলকে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য ভারতীয় ইমিগ্রেশন কাউন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর তাঁকে তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে কলকাতায় নিয়ে আসেন তিনি। এরপর প্রয়োজনীয় পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। 

    পুলিশ সূত্রে আরো খবর, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে বাংলাদেশে তাকে চিহ্নিত করা গিয়েছে। লালবাজারে পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান এ বিষয়ে জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে কলকাতায় আনার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে কলকাতায়ও খোঁজ চালানো হচ্ছে এই ঘটনার সঙ্গে আরও কোনও ব্যক্তি বা কোন চক্র রয়েছে কিনা।
  • Link to this news (আজকাল)