• 'শিকড়-সহ উপড়ে দেব', যাদবপুরে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর
    আজকাল | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: যাদবপুরের এক সভা থেকে রাজ্যে আধ্যাত্মিক জাগরণ ও গেরুয়া সংস্কৃতির প্রসারের পক্ষে সওয়াল করলেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে ‘কাশ্মীর মাঙে আজাদি’, ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ এবং ‘রেড স্যালুট’-এর মতো স্লোগান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে অপশব্দ, গালিগালাজ কিংবা গেরুয়া সংস্কৃতির অপমান বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।

    যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের চত্বর থেকে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, "গেরুয়া অপমান সহ্য করব না।" সাফ জানালেন, 'কিষেণজি রেড স‍্যলুট', 'ফ্রি প‍্যালেস্তাইন', 'কাশ্মীর চাহে আজাদি' স্লোগান চলবে না। এমনকি তিন দিন ব‍্যাপী বেদ পাঠের ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।

    যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এবং আরএসএস অনুমোদিত এবিভিপি-র মধ্যে সংঘাতের রেশ এখনও টাটকা। এর মাঝেই দেওয়াল দখলের লড়াই, স্লোগান নিয়ে বিতর্ক দানা বাধে। এক পক্ষ দেওয়াল লিখছে, তো অন্য পক্ষ তা মুছে ফের নিজেদের স্লোগান লিখে দিচ্ছে । এই উত্তপ্ত আবহের মধ্যেই বুধবার তিন কিলোমিটার দীর্ঘ 'গেরুয়া সম্মান' যাত্রার নেতৃত্ব দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন ঢাকুরিয়া দক্ষিণাপনের সামনে থেকে শুরু হয় 'গেরুয়া সম্মান যাত্রা'। নেতৃত্বে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই যাত্রা শেষ হয় যাদবপুর ৮বি বাস স্ট্যান্ডে।

    বুধবার ফের একবার‘আজাদি’ স্লোগান এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে 'রেড স্যালুট কিষেণজি' লেখা নিয়ে সরব হলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, " কীসের আজাদি? দেশ তো অনেক আগেই স্বাধীন হয়েছে।" আরও একবার 'রেড স্যালুট কিষেণজি' লেখা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। বলেন, "যাদবপুরের দেওয়ালে লেখা হচ্ছে‘রেড স্যালুট কিষেণজি'। নতুন প্রজন্মকে কী শেখানো হচ্ছে? কে এই কিষেণজি?"

    পরোক্ষণেই নিজের সংকল্পের কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। দেশ বিরোদী স্লোগান প্রসঙ্গে বলেন, "আমি শপথ নিয়েছি, এই যাদবপুরে, যা ঋষি অরবিন্দের ভূমি, সেখানে কিষেনজিকে রেড স্যালুট দেওয়া লোকদের শিকড়-সহ তুলব। আমি ২০১১ সালে পণ করেছিলাম, কমিউনিস্টদের সরাব, পণ করেছিলাম জামাতের সরকারকে সরাব, আপনাদের আশীর্বাদে সেটা হয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দের ভূমিতে গেরুয়াই থাকবে।"

    মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, যাদবপুরের রাস্তাতেই তিন দিন ব‍্যাপী বেদ পাঠের ব্যবস্থা করবেন তিনি। বলেছেন, "আমি কিছুদিনের মধ্যে এখানে পশ্চিমবঙ্গ সনাতনী ডাকে আবার আসব। একবার গীতাপাঠ করতে আসব।  আশা করব সব রাষ্ট্রবাদী মানুষ তাতে অংশগ্রহণ করবেন।' 

    এরপরই শুভেন্দু বলেন,"পশ্চিমবঙ্গ সনাতন সংস্কৃতি পরিষদের ডাকে দু'বার আসব। দেশ ও গেরুয়াকে যাঁরা অপমান করছেন, তাঁদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য একবার বেদপাঠ করতে আসব। আর একবার হনুমান চল্লিশা পাঠ করতে আসব।"

    এছাড়াও সরকারের বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্তের কথাও এদিনের মঞ্চ থেকে ঘোষণা করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, "উচ্চশিক্ষা দপ্তর যা করছে, তা এখন বলব না। কাল বিধানসভায় বলব। কাল ঐতিহাসিক বিল আসতে চলেছে। বেলা ১১ টা থেকে ১ টা পর্যন্ত বিশেষ অধিবেশন বসবে। ইন্টার ইউনিভার্সিটি অধ্যাপক-কর্মী ট্রান্সফার নীতি চালু করবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বিষয়টি দেখছে উচ্চশিক্ষা দপ্তর। আমি বলেছি, আমাকে ১০-১৫ মিনিট কথা বলার সময় দিতে হবে।" 

    এদিনের সভায় উপস্থিত সাধু-সন্ত, মন্ত্রী, বিধায়ক এবং অন্যান্য সহযোগীদের ধন্যবাদ জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ইনার্মানন্দজি মহারাজের উদ্যোগে যাদবপুরে দিনব্যাপী এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
  • Link to this news (আজকাল)