বছরে ক্ষতি ২৫০ কোটি টাকা! এবার ৩৭ গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে তৎপর ইসিএল
বর্তমান | ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সুমন তেওয়ারি, সাঁকতোড়িয়া: খনি অঞ্চলে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পরিষেবা দেওয়া থেকে পাকাপাকি হাত গুটিয়ে নিতে চলেছে ইস্ট্রার্ন কোলফিল্ড লিমিটেড(ইসিএল)। কয়লা খনি রাষ্ট্রায়ত্তকরণের পর থেকেই খনি পাশ্ববর্তী গ্রামগুলিতে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পরিষেবা দিত ইসিএল। তা আর দেওয়া হবে না। ইসিএলের দাবি, বিদ্যুৎ দিতে গিয়ে বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে সংস্থা। গ্রামে বিদ্যুৎ দেওয়ার সুযোগে বহু অসাধু ব্যবসায়ী তা ব্যবহার করে আইসক্রিম কারখানা চালাচ্ছে। গ্রিল কারখানা গড়ে তুলেছে। বছরে তাঁদের ২৫০ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। সেটা আর সম্ভব নয় বলেই এই সিদ্ধান্ত।
জানা গিয়েছে, ইসিএল আগে ৪২টি গ্রামে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পরিষেবা দিত। প্রথম ধাপে ৫টি গ্রামে বিদ্যুৎ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এরপর ৩৭টি গ্রামেও বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হবে। বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে ইসিএলের দাবি, রাজ্য সরকারের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছে। ওই সব গ্রামে রাজ্য সরকারের সংস্থা বিদ্যুৎ পরিষেবা দেবে। তাঁরা বিদ্যুৎ পরিষেবা দেওয়ার পরই ইসিএলে নিজেদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করবে। স্বাভাবিক ভাবেই স্পষ্ট , অর্থ দিয়েই এবার থেকে বিদ্যুৎ নিতে হবে খনি অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে। এরই পাশাপাসি ইসিএল জানিয়েছে, কোয়ার্টার জবর দখল মুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযানও চালানো হবে। খনি অঞ্চলজুড়ে ইসিএলের ৬৩ হাজার কোয়ার্টার রয়েছে। তারমধ্যে মাত্র ১৮ হাজার কোয়ার্টারে ইসিএল কর্মীরা থাকেন। বাকিগুলিতে তাদের কোনো কর্মীই থাকেন না। সেগুলির মধ্যে বহু কোয়ার্টার ভগ্নপ্রায়। সেগুলিতে উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ধীরে ধীরে সব অবৈধ জবরদখলকারিদেরই তুলে দেওয়া হবে।
ইসিএলের সিএমডি সতীশ ঝাঁ জানিয়েছেন, ইসিএলের কাজ বিদ্যুৎ পরিষেবা দেওয়া নয়। আমাদের দেওয়া বিদ্যুৎ থেকে কোনো বিপর্যয় হলে কে দায়িত্ব নেবে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, আমাদের নিজস্ব কলোনি, কোলিয়ারি ছাড়া যে অংশে বিদ্যুৎ দিতে হয় তার জন্য ২৫০ কোটি টাকা বছরে ক্ষতি হয়। আমাদের দেওয়া বিদ্যুতে আইসক্রিম ফ্যাক্টরি চালানো হচ্ছে। গ্রিল কারখানা চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বিপদজনক অবস্থায় রয়েছে ইসিএলের বহু কোয়ার্টার। সেগুলি নোটিস দিয়ে ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। যে কোন সময়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বাকি কোয়ার্টারগুলি থেকেও দখলদার উচ্ছেদ করা হবে।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ শ্রমিক সংগঠনগুলি। সিটু অনুমোদিত কোলিয়ারি মজদুর সভার সভাপতি জি কে শ্রীবাস্তব বলেন, যেখানে খনি হবে তাঁর পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় থাকা জনবসতিকে বিনামূল্যে জল ও বিদ্যুৎ পরিষেবা দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কারণ, খনি হলে তাঁর পাশ্ববর্তী এলাকার মানুষকে বহু সমস্যায় পড়তে হয়। ইসিএল সেই দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারে না। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বৃহৎ আন্দোলন হবে। যারা বিদ্যুৎ চুরি করে কারখানা চালাচ্ছে, ইসিএলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক। তিনি আরও বলেন, খনিগুলি গড়ে ওঠার সময়ে বসতি গড়ার জন্য বিভিন্ন এলাকার থেকে লোক এনে বসানো হয়েছিল। আজ ইসিএলের জায়গা বলে উচ্ছেদ করতে গেলে তা সম্পূর্ণ অমানবিক হবে। এইচএমএস নেতা এস কে পাণ্ডে বলেন, আগের সরকারের মনোভাব ছিল একটি কোলিয়ারি গড়ে এলাকার সামাজিক ও অর্থনীতিক উন্নয়ন। এখন সরকারের মানসিকতা কীভাবে বাড়তি লাভ করব। এই মনোভাবের পরিবর্তনের জন্য সমস্যা হচ্ছে।