• যথেষ্ট হয়েছে! ‘সেবাশ্রয়’ কেসে উষ্মা আদালতের
    এই সময় | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • এই সময়: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের নিয়ে ওঠা অভিযোগের জেরে এ বার কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। ভবিষ্যতে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন কোনও এফআইআর দায়েরের আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া যায় কি না, তা বিবেচনার ইঙ্গিত দিল হাইকোর্ট। সোমবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের মৌখিক পর্যবেক্ষণ— 'যথেষ্ট হয়েছে। ৪ মে থেকে বিষয়টি শুনে আসছি। এই মামলা–সহ হাইকোর্টের অন্য বেঞ্চে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যে সব মামলা চলছে, সেগুলিও আদালত বিবেচনা করবে। অতীতে এই আদালত প্রাক্তন বিরোধী দলনেতার (মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী) মামলায় যেমন নির্দেশ দিয়েছিল, তার ভিত্তিতে এ ক্ষেত্রেও ব্ল্যাঙ্কেট রক্ষাকবচের আদেশ দেবো।'

    'সেবাশ্রয়' শিবিরে ওষুধ ও চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে তিনটি পৃথক এফআইআর দায়ের হয়েছিল অভিষেকের বিরুদ্ধে। সেই এফআইআর চ্যালেঞ্জ করে অভিষেক হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। এ দিনের শুনানিতে অভিষেকের হয়ে সওয়াল করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন। তাঁর যুক্তি, 'অভিষেকের বিরুদ্ধে মোট ১৬টি অভিযোগের মধ্যে সাতটিই দায়ের করেছেন তাঁর কাছে দু'বার ভোটে পরাজিত বিজেপির অভিজিৎ দাস (ববি)। তাঁর রাজনৈতিক অভিসন্ধি অস্বীকার করা যায় না। অভিযোগের মধ্যে কোথাও নির্দিষ্ট ভাবে আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে কোনও বক্তব্য নেই।' বিচারপতির প্রশ্ন, 'তদন্ত না করেই কী ভাবে ওই অভিযোগের সঙ্গে অভিষেককে যুক্ত করা হচ্ছে?' তাঁর সংযোজন, 'আমি নিজে তিনটি অভিযোগ দেখেছি। কোনওটির সঙ্গেই আবেদনকারীর যোগ নেই। তিনি যদি ক্ষতিগ্রস্ত না হন, তা হলে কীসের ভিত্তিতে তিনি মামলা দায়ের করেছেন?'

    রাজ্যের তরফে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার বলেন, 'অভিযোগটি ভুয়ো ওষুধ সংক্রান্ত এবং অভিযোগকারী এক জন হুইসল ব্লোয়ার।' বিচারপতির পাল্টা প্রশ্ন, 'তিনি (অভিষেক বন্দ্যেপাধ্যায়) কি ওষুধটি প্রেসক্রাইব করেছেন?' এতদিন পরে কেন মামলা দায়ের হলো, তা–ও জানতে চায় আদালত। বিচারপতির প্রশ্ন, 'একই ব্যক্তি, যিনি তাঁর কাছে দু'বার হেরেছেন, তিনিই বার বার অভিযোগ করছেন কেন?' তবে আদালত স্পষ্ট করে দেয়, তদন্তে কোর্ট হস্তক্ষেপ করতে চায় না। তদন্ত চলুক, চার্জশিট দেওয়া হোক। কিন্তু এই পর্যায়ে অভিষেককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন নেই। তাঁর স্পষ্ট কথা, 'এটা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে তাঁর বিরুদ্ধে আর কোনও এফআইআর দায়ের করা আটকাতে আমি ব্ল্যাঙ্কেট অর্ডার দেবো।'

    অভিযোগকারী অভিজিৎ দাসের আইনজীবী জয়ন্তনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এতদিন ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে রেখেছিলেন। তাঁর ভয়ে মানুষ অভিযোগ দায়ের করতে পারেনি। গত ১৫ বছর ধরে উনি (অভিষেক) গোটা রাজ্যকে আতঙ্কিত করে রেখেছিলেন। আমার মক্কেল অভিযোগ সামনে আনার পরে এখন অনেকে এগিয়ে আসার সাহস পাচ্ছেন।'

    মূল অভিযোগটিকে আদালত চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ হিসেবে চিহ্নিত করলেও জয়ন্তনারায়ণের পাল্টা যুক্তি, 'যেখানে সেবাশ্রয় নামের এই শিবির কোনও অনুমতি ছাড়া করা হয়েছে এবং সর্বত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম এর উদ্যোক্তা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে, সেখানে চিকিৎসায় গাফিলতির আগে এই বেআইনি শিবির নিয়েই তদন্ত হওয়া উচিত।' আপাতত ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ না–করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তবে তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। ২৩ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির আগে তদন্তে অগ্রগতির রিপোর্ট দিতে হবে রাজ্যকে।

  • Link to this news (এই সময়)