• পরিবেশবান্ধব দুর্গাপুজোয় জনসচেতনতার ডাক, গণ-অভিযানে রোটারি, যাদবপুর ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ
    এই সময় | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • এই সময়: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোকে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই করে তুলতে গণ-সচেতনতা অভিযান শুরু করা হলো। একই সঙ্গে দূষণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বেশ কিছু বিধিনিষেধ সম্পর্কে গাইডলাইন তৈরি করে দিয়ে এই উদ্যোগের অন্যতম অংশীদার হয়েছে কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদও। সম্প্রতি একটি সাংবাদিক বৈঠকে এই অভিযানের লক্ষ্য, কর্মসূচি ও সম্ভাব্য পরিবেশগত ফলাফল নিয়ে আলোচনাও হয়েছে।

    ২০২৫–এর সাফল্যের ভিত্তিতে এ বার আরও বৃহৎ পরিসরে এই উদ্যোগ নিয়েছে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট ৩২৯১। এই উদ্যোগে সামিল হয়েছে রিসার্চ ইনস্টিটিউটস অফ দ্য গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য, দুর্গাপুজোর বিপুল আয়োজনের সঙ্গে পরিবেশরক্ষা, অর্থনীতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয় ঘটানো। রাষ্ট্রপুঞ্জের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দুর্গাপুজোকে আন্তর্জাতিক স্তরে এমনই একটি উৎসবের মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চায় রোটারি। এর জন্য প্রতিমা নির্মাণ থেকে মণ্ডপসজ্জা, আলোকসজ্জা, ভোগ বিতরণ থেকে বিসর্জন — প্রতিটি পর্যায়ে বর্জ্য কমানো, পুনর্ব্যবহার এবং প্রাকৃতিক উপকরণের ব্যবহার বাড়ানোর উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে।

    এই প্রসঙ্গে রোটারির শরৎ স্বীকৃতি কমিটির চেয়ারম্যান সুমন গুহ বলেন, 'এ বছর অন্তত একটি মডেল পুজো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে সৌরশক্তির ব্যবহার, বৃষ্টির জল বা ভূগর্ভস্থ জল রিচার্জের উপযোগী ব্যবস্থা এবং পুজোয় ব্যবহার করা ফুল থেকে জৈব সার তৈরির উদ্যোগ থাকবে। ভোগ এবং কমিউনিটি লাঞ্চে সিঙ্গল ইউজ়ড প্লাস্টিকের পরিবর্তে মাটি ও পাতা দিয়ে তৈরি বাসনের ব্যবহার করা হবে। প্রতিমায় ব্যবহার করা হবে উদ্ভিদজাত এবং বিষমুক্ত জৈব রং।'

    পুজোর সঙ্গে যুক্ত প্রান্তিক মানুষদের অংশ। উন্নয়নও এই অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিমাশিল্পী, কারিগর, পুরোহিত, থিমশিল্পী, বিদ্যুৎকর্মী, দৈনিক শ্রমিক, হকার, বিসর্জনকর্মী ও সাফাইকর্মীদের সচেতনতা এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তাঁদের জীবিকা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়েও 'লং টার্ম বেসিস'-এ পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

    এই কাজে কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্যদের নির্দেশিকা অনুসরণ করা হবে। প্রযুক্তিগত ও বৈজ্ঞানিক সহায়তা নেওয়া হবে কেন্দ্রীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে। সরকারি সহযোগিতাও চেয়েছেন উদ্যোক্তারা। প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও স্থায়িত্ব নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে বৈঠকে। অন্তত একটি পুজোকে আদর্শ হিসেবে গড়ে তার বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে অন্য পুজো কমিটিগুলিকে পরিবেশবান্ধব পথে উৎসাহিত করাই এ বছর রোটারির লক্ষ্য।

  • Link to this news (এই সময়)