• আসল-নকলে ফারাক করা দায়, ৫০০ দিলে মিলবে ১০০০ ‘টাকা’, ফাঁস জাল নোটের অভিনব কারবার
    এই সময় | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • সাদা চোখে দেখলে অবিকল আসল নোট। খতিয়ে না দেখলে ধরতে পারা মুশকিল। এতই নিখুঁত ভাবে তৈরি যে ব্লিড লাইন ও হলোগ্রাম দেখেও এক ঝলকে বোঝা দায়। এমনই ‘নিখুঁত’ ৫০০-এর বিপুল পরিমাণ জাল নোট বাজেয়াপ্ত করল পুলিশ। মুম্বইয়ে বড়সড় জাল নোটের কারবারের পর্দাফাঁস করল সেখানকার ক্রাইম ব্রাঞ্চ। সেই সূত্রেই উদ্ধার হয়েছে প্রায় ১০.৬৪ লক্ষ টাকা মূল্যের ৫০০ টাকার জাল নোট। ওই ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    তদন্তকারীদের দাবি, উদ্ধার হওয়া নোটগুলি এতটাই নিখুঁতভাবে তৈরি যে প্রথম নজরে আসল নোটের সঙ্গে তার পার্থক্য বোঝা কঠিন। সেই নোট ব্যবহার করেই অভিনব পদ্ধতিতে চলছিল জালিয়াতি। তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ জানিয়েছে, আসল টাকার প্রায় দ্বিগুণ মূল্যের জাল নোট দেওয়া হতো ক্রেতাদের।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে ফাঁদ পেতে এক মহিলাকে আটক করা হয়। তাঁর কাছ থেকে কয়েকটি জাল নোট উদ্ধার হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই তদন্তকারীরা পৌঁছে যান মূল অভিযুক্তের কাছে। এরপর কুর্লা এলাকা থেকে ওই ব্যক্তিকে পাকড়াও করে তাঁর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জাল ৫০০ টাকার নোট উদ্ধার হয়।

    গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করানো হলে তাঁকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই মহিলার ভূমিকা এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁকে নোটিসও দিয়েছে ক্রাইম ব্রাঞ্চ।

    কেউ যদি ১০ হাজার টাকা আসল নোট দিতেন, তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হত ২০ হাজার টাকা মূল্যের জাল নোট। এইভাবেই চলছিল বেআইনি কারবার। তবে অভিযুক্ত নিজে কত দামে জাল নোট কিনত এবং কোন ব্যক্তি বা চক্রের কাছ থেকে সেগুলি সংগ্রহ করত, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    ধৃত ব্যক্তি পেশায় জুতোর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ। এখন তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন জাল নোটের ব্যবসাই তাঁর মূল কাজ ছিল, নাকি জুতোর ব্যবসার পাশাপাশি গোপনে এই চক্রে যুক্ত ছিলেন। এর আগে কতবার জাল নোট কিনেছেন বা সরবরাহ করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমে ইতিমধ্যেই বাজারে কত জাল নোট ঢুকেছে—সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ তাঁর এবং ওই মহিলার অতীতও যাচাই করেছে। প্রাথমিক তদন্তে তাঁদের কারও বিরুদ্ধে আগের কোনও অপরাধের রেকর্ড মেলেনি।

    মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চের দাবি, জাল নোটগুলি মহারাষ্ট্রের বাইরে থেকে কেনা হয়েছিল। তবে ঠিক কোন রাজ্যে সেগুলি তৈরি হয়েছিল, তা এখনও জানা যায়নি। কোথায় নোট ছাপা হতো, কারা তৈরি করত এবং কী ভাবে সেগুলি মুম্বইয়ে পৌঁছত— সেই নেটওয়ার্কের সন্ধানেই তদন্ত চলছে।

    এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও বিদেশি যোগ, বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে কোনও সম্পর্কের প্রমাণ পায়নি পুলিশ। তদন্ত যত এগোবে, ততই এই চক্রের পরিধি স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

    পুলিশ জানিয়েছে, জাল নোটগুলি আসল ৫০০ টাকার নোটের বেশ কয়েকটি সিকিউরিটি ফিচার খুব নিখুঁত ভাবে নকল করা হয়েছিল। ফলে সাধারণ মানুষের পক্ষে প্রথম দেখায় নকল নোট চেনা কঠিন হতে পারে।

    তবে ভাল করে পরীক্ষা করলে কিছু পার্থক্য চোখে পড়ে। যেমন, নোটের নীচের দিকে সাদা অংশের প্রস্থে ফারাক রয়েছে। হলোগ্রামের গুণমান এবং তার বৈশিষ্ট্যেও পার্থক্য রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি জায়গায় বানান ও ফন্টেও সামান্য অমিল পাওয়া গিয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)