এই সময়: পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করেছিল ক্ষুদ্র এক গ্রহাণু ‘সিইআরএনকিউ৫২’। ৬ সেপ্টেম্বর আমেরিকার অ্যারিজ়োনার মাউন্ট লেমন সার্ভে প্রথম বস্তুটির সন্ধান পায়। এর কক্ষপথ বিশ্লেষণে দেখা যায়, আবিষ্কারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সেন্টার (আইএসি)–র ডিরেক্টর মহম্মদ শওকত ওদেহ জানিয়েছেন, ‘ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি’–র হিসেব অনুযায়ী এই গ্রহাণুর ব্যাস ০.৬ থেকে ১.২ মিটার।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানিয়েছিলেন, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পরে এই গ্রহাণু উত্তর-পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার কাছাকাছি ভারত মহাসাগরে গিয়ে পড়বে। সেখানে তখন রাত থাকায় আকাশে উজ্জ্বল উল্কা বা অগ্নিগোলকের দৃশ্য দেখা যেতে পারে। বাস্তবে তেমনটাই হয়েছে। ‘সিইআরএনকিউ৫২’ নিয়ে আতঙ্কের কোনও কারণ নেই বলেও আশ্বাস দিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। আকারে ছোট হওয়ায় এর অধিকাংশই বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
এই ঘটনার বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব খুব বেশি। অতীতে পৃথিবীর উপরে আছড়ে পড়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে কোনও ছোট মহাজাগতিক বস্তুকে শনাক্ত করে তার গতিপথের হিসেব বারবার নির্ধারণ করা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ‘সিইআরএনকিউ৫২’-কে অ্যাটেন শ্রেণির প্রথম পরিচিত বস্তু হিসেবে বিবেচনার সম্ভাবনা ছিল, যদিও কোন কক্ষপথ ধরে সে এতদিন ঘুরেছে এবং পৃথিবীতে নেমে এসেছে, তার চূড়ান্ত নির্ধারণ এখনও বাকি। অ্যাটেন শ্রেণির বস্তু বলতে এমন এক ধরনের গ্রহাণু বোঝায়, যারা পৃথিবীর নিকটে থাকে। এরা সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে পৃথিবীর এক বছরের চেয়ে কম সময় নেয়।
গ্রহাণু নিয়ে উদ্বেগের জায়গা অবশ্য অন্য। পৃথিবীর কাছাকাছি থাকা সব গ্রহাণু বিপজ্জনক নয়। ঝুঁকি নির্ভর করে তাদের আকার, গতি, কক্ষপথ এবং পৃথিবীর সঙ্গে সম্ভাব্য নিকটতম দূরত্বের উপরে। কয়েক মিটার আকারের বস্তু সাধারণত বায়ুমণ্ডলে পুড়ে যায়। কিন্তু কয়েকশো মিটার ব্যাসের গ্রহাণু বায়ুমণ্ডল পেরিয়ে স্থলভাগ বা সমুদ্রে আঘাত করলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। কিলোমিটার-আকারের বস্তু বিরল হলেও তাদের অভিঘাত গোটা পৃথিবীতে বিপর্যয় এবং দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ুগত প্রভাব ফেলতে পারে।
এই কারণেই বিশ্বজুড়ে ‘নিয়ার আর্থ অবজেক্ট’ পর্যবেক্ষণ কর্মসূচি, স্বয়ংক্রিয় টেলিস্কোপ এবং কক্ষপথ গণনার প্রযুক্তি ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কোনও গ্রহাণু বহু বছর পরে পৃথিবীর সঙ্গে সংঘর্ষের সম্ভাবনা তৈরি করলে আগাম সতর্কতা পাওয়া গেলে তার গতিপথ বদলের মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রযুক্তিও তৈরি করছে উন্নত দেশগুলো। ফলে আজকের নজরদারি ভবিষ্যতের বিপর্যয় ঠেকানোর গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।