প্রথম ঝলকেই কৌতূহল বাড়াল ওম সাহানি–মৌপিয়া গোস্বামীর 'অভিনেত্রী'
eTV Bharat | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হায়দরাবাদ, 7 সেপ্টেম্বর: প্রথম ঝলক প্রকাশ্যে আসতেই কৌতূহল বাড়ল পরিচালক দুর্জয় মণ্ডলের নতুন বাংলা ছবি 'অভিনেত্রী' (Abhinetri)-কে ঘিরে। ছবিতে প্রথমবারের মতো জুটি বাঁধছেন ওম সাহানি (Om Sahani) ও মৌপিয়া গোস্বামী (Moupiya Goswami )। ছবির ফার্স্ট লুক-এ ধরা পড়েছে এক বিশেষ আবহ, যেখানে প্রেম, স্বপ্ন এবং সম্পর্কের আবেগের পাশাপাশি রয়েছে অজানা এক রহস্যের ইঙ্গিত।
তবে 'অভিনেত্রী'-কে শুধুমাত্র একটি প্রচলিত প্রেমের গল্প হিসেবে দেখতে নারাজ পরিচালক দুর্জয় মণ্ডল। তাঁর নতুন ছবির প্রথম ঝলক থেকেই স্পষ্ট, গল্পের মধ্যে রয়েছে একাধিক স্তর এবং এমন কিছু অজানা দিক, যা ধীরে ধীরে দর্শকের সামনে উন্মোচিত হবে। ছবির কেন্দ্রে রয়েছেন ওম সাহানির কাব্য রায় এবং মৌপিয়া গোস্বামীর পদ্মজা।
কাব্য একজন উঠতি লেখক। গল্প এবং চিত্রনাট্য লেখা নিয়েই তার স্বপ্ন। জীবনের কঠিন সময়ের মধ্যে বিভিন্ন পরিচালক ও প্রযোজকের অফিসে ঘুরে বেড়ায় সে, নিজের পরিচয় তৈরি করার আশায়। অন্যদিকে পদ্মজা একজন প্রতিভাবান এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী মডেল ও অভিনেত্রী, যার স্বপ্ন বিনোদন জগতে নিজের একটি আলাদা পরিচয় তৈরি করা। দুই ভিন্ন স্বপ্নের এই মানুষ কীভাবে একে অপরের জীবনে এসে পড়ে, তারপর তাদের সম্পর্ক কোন পথে এগিয়ে যায় এবং জীবনের নানা ওঠানামার মধ্যে তারা কীভাবে নিজেদের স্বপ্ন ও সম্পর্ককে সামলে রাখে-সেই গল্পই তুলে ধরবে 'অভিনেত্রী'।
নিজের চরিত্র সম্পর্কে ওম সাহানি বলেন, "আমার চরিত্রের নাম কাব্য রায়। কাব্য একজন উঠতি লেখক, যে গল্প এবং চিত্রনাট্য লেখে। বিভিন্ন পরিচালক ও প্রযোজকের অফিসে ঘুরে বেড়ায়। এই মুহূর্তে তার স্ট্রাগল পিরিয়ড চলছে। এর মধ্যেই কীভাবে তার সঙ্গে পদ্মজার দেখা হয় এবং তারপর দু’জনের জীবনের এগিয়ে যাওয়ার পথে কী কী বাধা আসে, ওঠানামার মধ্য দিয়ে কীভাবে তারা এগিয়ে যায়, সেই পথ তারা একসঙ্গে পাড়ি দিতে পারে কি না-সেই গল্পই ছবিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং জীবনের বিভিন্ন রিয়েলিটি চেক তারা কীভাবে সামলে নেয়, সেটাও গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।"
অন্যদিকে, পদ্মজা চরিত্রটি মৌপিয়া গোস্বামীর কাছেও অত্যন্ত বিশেষ। নিজের চরিত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "‘অভিনেত্রী’ ছবিতে পদ্মজা চরিত্রটি আমার কাছে অত্যন্ত বিশেষ। পদ্মজা একজন প্রতিভাবান ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী মডেল এবং অভিনেত্রী, যে নিজের প্রতিভা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে বিনোদন জগতে নিজের পরিচয় তৈরি করতে চায়। চরিত্রটির মধ্যে যেমন স্বপ্ন রয়েছে, তেমনই রয়েছে নানা আবেগ ও চ্যালেঞ্জ। পদ্মজাকে পর্দায় তুলে ধরার অভিজ্ঞতা আমার কাছে অত্যন্ত আনন্দের এবং একইসঙ্গে শিক্ষণীয়। আশা করি, দর্শকরা পদ্মজার স্বপ্ন, লড়াই এবং আবেগের সঙ্গে নিজেদের কোথাও না কোথাও মিল খুঁজে পাবেন এবং ‘অভিনেত্রী’ ছবিতে আমার অভিনয় ভালোবাসায় গ্রহণ করবেন।"
তবে কাব্য ও পদ্মজার সম্পর্ক শুধুমাত্র প্রেমের সরল সমীকরণে আটকে নেই। তাদের ব্যক্তিগত স্বপ্ন, পেশাগত লড়াই, বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন-সবকিছু মিলিয়ে গল্পটি ধীরে ধীরে অন্য এক মাত্রা পেতে চলেছে। আর সেই জায়গাতেই পরিচালক দুর্জয় মণ্ডল গল্পের মধ্যে যোগ করেছেন রহস্য এবং মনস্তাত্ত্বিক এক বিশেষ স্তর।
ছবিটি নিয়ে পরিচালক দুর্জয় মণ্ডল বলেন, "‘অভিনেত্রী’ নিয়ে এখন বেশি কিছু বলা ঠিক হবে না। কারণ আমি চাই দর্শক ছবিটা দেখতে বসে একের পর এক চমক আবিষ্কার করুন। এটা শুধু প্রেমের গল্প নয়, আবার শুধুই রহস্যের গল্পও নয়। ছবির আবেগের সঙ্গে রহস্য এবং চরিত্রের মনস্তত্ত্ব এমনভাবে মিশে আছে, যেখানে দর্শক শেষ পর্যন্ত নিজের মতো করে গল্পটাকে অনুভব করবেন।"
প্রেম, স্বপ্ন, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং অজানা এক রহস্যের আবহ-সব মিলিয়ে ‘অভিনেত্রী’-র প্রথম ঝলক দর্শক মনে তৈরি করেছে বিশেষ আগ্রহ। কাব্য ও পদ্মজার ব্যক্তিগত এবং পেশাগত জার্নি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তাদের সম্পর্ক বাস্তবতার পরীক্ষায় কতটা টিকে থাকে এবং গল্পের আড়ালে লুকিয়ে থাকা রহস্য কোথায় গিয়ে পৌঁছয়-সেই উত্তর আপাতত তুলে রাখা হচ্ছে দর্শকদের জন্য।