• দুর্গাপুজোয় অনুদান ১ লক্ষ, বিদ্যুৎ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে
    বর্তমান | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সব জল্পনার অবসান! ছিল ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। সামান্য কমে হল ১ লক্ষ। সেই সঙ্গে বিদ্যুতের বিল পুরোটাই ছাড়। মে মাসে রাজ্যে নতুন সরকার এসেছে। তারপর থেকেই জল্পনা চলছিল, নয়া সরকার কি বিগত সরকারের মতোই দুর্গাপুজোর আর্থিক অনুদান অব্যাহত রাখবে? অনুদানের অঙ্ক কি বাড়তে পারে? সব পুজো কমিটিই কি টাকা পাবে? পাড়ার পুজো থেকে শুরু করে ছোটোখাটো বারোয়ারি পুজোর কর্তারা বিষয়টি নিয়ে রীতিমতো চিন্তিত ছিলেন। কারণ, গত কয়েক বছরে এই সরকারি অনুদানের উপর তাদের কিছুটা হলেও নির্ভরতা তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সোমবার মিলন মেলায় দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি ও সমন্বয় বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তাঁর ঘোষণা, ‘এক লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। তবে এটা অপশনাল রাখলাম। আগে যে পুজো কমিটি টাকা নিত না, তাদের সরকার বিরোধী বলে দেওয়া হত। কিন্তু আমাদের সরকার কিছু চাপিয়ে দিচ্ছে না। একটা আবেদন রাখছি। সিদ্ধান্ত আপনাদের। বড়ো পুজোগুলি, যাদের এই টাকা না হলেও চলে, তারা সম্ভব হলে এই সাহায্য নেবেন না। কিন্তু যাঁরা এই টাকা না থাকলে পুজো করতেই পারবেন না, তাদের সরকার অবশ্যই সাহায্য করবে।’ সেই সঙ্গে সব পুজোর জন্যই বিদ্যুতের বিলে সম্পূর্ণ ছাড় ঘোষণা করেন তিনি। আবেদন করলে ফায়ার লাইসেন্সও মিলবে বিনামূল্যে। সরকারি তথ্য বলছে, এবার রাজ্যে প্রায় ৫৫ হাজার বারোয়ারি পুজো হচ্ছে। মহিলা পরিচালিত পুজো প্রায় চার হাজার। 

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এবারের দুর্গাপুজো অত্যন্ত পবিত্রতার সঙ্গে, সনাতন সংস্কৃতি এবং বাঙালির ঐতিহ্য একসঙ্গে নিয়ে পালন করব। প্যান্ডেলের থিম এমন কিছু করবেন না, যাতে ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আঘাতপ্রাপ্ত হয়।’ পুজোকেন্দ্রিক সমস্ত অনুমতি এক জায়গা থেকে পেতে ‘সহজ’ পোর্টালে আবেদন করতে বলেন তিনি। 

    মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, এবার মহালয়ায় ইডেন গার্ডেনে চার ঘণ্টার বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করছে রাজ্য। ড্রোন শো, আতশবাজিতে বৃহত্তম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। দীঘাতে মহালয়ার পরে পর্যটন দপ্তরের অনুষ্ঠান হবে। রাজ্যের ছ’টি শহরে দু’দিন ব্যাপি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে। কলকাতায় গঙ্গার চারটি ঘাটে বিশেষ অনুষ্ঠান করবে সরকার। শুভেন্দু বলেন, ‘মহালয়ার দিন প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানাব। তিনি পারলে আসবেন।’

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়ের আমলে মহালয়ার আগেই পুজো উদ্বোধনের অভিযোগ উঠেছিল। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, ‘দেবীপক্ষ শুরু হওয়ার আগে পুজো উদ্বোধনের অনুমতি দেব না। জাতীয় সড়ক আটকে ও কলকাতায় ১৩টি রাস্তা বন্ধ করে পুজো করা যাবে না। নিরপেক্ষতার সঙ্গে দুর্গাপুজোর পুরস্কার দেওয়া হবে। যাঁরা শাস্ত্র বোঝেন, তাঁদেরই বিচারকমণ্ডলীতে রাখা হবে।’ প্রতিমা নিরঞ্জন নিয়ে তিনি বলেন, ‘দশমী হয়ে যাওয়ার পরেও কার্নিভালের জন্য প্রতিমা রেখে দেওয়া হত। সেটা এবার হবে না। ২৫ অক্টোবর লক্ষ্মীপুজো। ২৪ অক্টোবরের মধ্যে বিসর্জন শেষ করতে হবে। বিসর্জন ঘাটে ক্রেন ব্যবহার করা যাবে না। তাতে মায়ের মূর্তির পবিত্রতা নষ্ট হয়।’ পুজো-পর্ব মেটার পর পুলিশ, দমকল, পুরসভা, পরিবহণ, স্বাস্থ্যকর্মী, কর্মবন্ধুদের জন্য দু’দিন সবেতন ছুটি ঘোষণা করেছেন তিনি। 

    এদিকে, বৈঠক সংক্রান্ত একটি সরকারি বিজ্ঞাপন নিয়ে এদিন বিতর্ক তৈরি হয়। ওই বিজ্ঞাপনে দেবী দশভূজার ১১টি হাত দেখা যায়। সভামঞ্চের পিছনেও সেই একই ছবিযুক্ত ব্যানার ছিল। বৈঠক শুরুর আগে তড়িঘড়ি ১১তম হাতটি মুছে ফেলা হয়। শুরুতেই শুভেন্দু বলেন, ‘ক্ষমা চাইছি। একটি ত্রুটিপূর্ণ বিজ্ঞাপন বেরিয়েছে। যারা এই বিজ্ঞাপন তৈরি করেছে, তাদের সতর্ক করা হয়েছে। সরকার আগামী দিনে এ বিষয়ে যত্নবান থাকবে।’
  • Link to this news (বর্তমান)