খানাকুল দুইয়ে বন্যা পরিস্থিতি, মাছ চাষের ক্ষতি ঘিরে উদ্বেগ
বর্তমান | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদদাতা আরামবাগ: একটানা বৃষ্টি ও বিভিন্ন জলাধার থেকে জল ছাড়ায় খানাকুল ২ ব্লকে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ওই এলাকার মৎস্য চাষীরা। তাঁরা তাঁদের অর্থনৈতিক সংকটের কথা ব্লক অফিসে জানাচ্ছেন। এই প্রসঙ্গে তাঁরা বলেন, বন্যার জল আমাদের এলাকায় এখনো জমে রয়েছে। সব পুকুর ভেসে গিয়েছে। পুকুরের মধ্যে বহু মাছ ছাড়া ছিল। জলের স্রোতে সব ভেসেছে। আমাদের বহু টাকা লোকসান হয়ে গিয়েছে। সরকারের তরফ থেকে যদি আমাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হয় তাহলে খুবই উপকার হয়। খানাকুলের বিজেপি বিধায়ক সুশান্ত ঘোষ বলেন, সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছি। এখানে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় বেশ কিছু পুকুর ভেসেছে। আমরা মৎস্য চাষীদের ব্লক অফিসে গিয়ে লিখিত ভাবে জানানোর জন্য বলেছি। আমরা বিষয়টি সম্বন্ধে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেব।
স্থানীয় ও পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, খানাকুল থানা এলাকাটি অন্যান্য জায়গা থেকে অনেকটাই নিচে। অন্যদিকে, এই এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে অসংখ্য নদ, নদী ও খাল। ফলে ওই এলাকায় অল্প বৃষ্টি হলেই জল জমে যায়। এর উপর যদি নদীতে জল বাড়ে তাহলে ওই এলাকার নদী বাঁধ ভেঙে গোটা খানাকুল থানা এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
জানা গিয়েছে, এবছর নিম্নচাপের জেরে একটানা বৃষ্টিতে এমনিতেই খানাকুল থানা এলাকার দু’নম্বর ব্লকের বিস্তীর্ণ জায়গা জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল। এরই মধ্যে ডিভিসি জল ছাড়ায় ওই ব্লকের মারোখানা, বোনহিজলি, হানুয়া সহ একাধিক গ্রামে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। সেখানে প্রায় ২০ থেকে ২৫ টি পুকুর জলে ভেসে গিয়েছে। এদিকে বর্ষার জলে পুষ্টি থাকায় মে ও জুন মাস নাগাদ মাছ চাষ শুরু করেছিলেন চাষিরা। বর্তমানে এক একটি মাছ প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম করে ওজনে দাঁড়িয়ে ছিল।
এই অবস্থায় বন্যার জলের কারণে মাঠ-ঘাট জমি-বাড়ি সহ পুকুর, দিঘিও জলে ডুবে যায়। ফলে পুকুর থেকে মাছ জলের স্রোতে ভেসে গিয়েছে। এতে মৎস্য চাষিরা অর্থনৈতিক দিক থেকে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আর সেই মাছ পুকুর থেকে ভেসে যাওয়ায় স্থানীয় মানুষের জালে করে ধরে লাভবান হওয়ার ছবিও ধরা পড়ছে। জাল ফেললেই উঠেছে রুই, কাতলা, তেলাপিয়া, বাটা মাছ।
স্থানীয় বাসিন্দা বসুদেব পাত্র বলেন, আমি লিজ নিয়ে ১০ টি পুকুরে মাছ চাষ করার জন্য চারা ছেড়েছিলাম। আমার কয়েকটি পুকুরে আগের বছরেরও মাছ ছিল। কয়েক মাস বাদেই ওই মাছগুলি তোলার কথা ছিল। কিন্তু এমন সময় হঠাৎ করে নিম্নচাপের জেরে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় আমার সব মাছ পুকুর থেকে ভেসে গিয়েছে। খুব বিপদে পড়ে গিয়েছি। প্রায় ২ লক্ষ টাকার মাছ নষ্ট হয়েছে। সরকারি সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছি।