উত্তর দিনাজপুর জেলায় অনুমোদনহীন ২০০-র বেশি বেসরকারি স্কুলকে শোকজ
বর্তমান | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করা অনুমোদনহীন ২০০টিরও বেশি বেসরকারি প্রাইমারি ও হাইস্কুলকে শোকজে’র চিঠি ধরালো উত্তর দিনাজপুর জেলা স্কুল পরিদর্শকের দপ্তর। এরমধ্যে মাধ্যমিক স্কুল পরিদর্শকের দপ্তর পঞ্চাশের বেশি বেসরকারি হাইস্কুলকে ও প্রাইমারি স্কুল পরিদর্শকের দপ্তর পৃথকভাবে দেড়শোর বেশি প্রাইমারি স্কুলকে শোকজ করেছে। এবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকারি সেই শোকজের উত্তর দিতে না পারলে জেলার ওই বেসরকারি স্কুল কর্তৃপক্ষগুলির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করবে শিক্ষা দপ্তর। দিতে হতে পারে মোটা অঙ্কের আর্থিক জরিমানা। যদিও একে একে শোকজ চিঠির উত্তর স্কুল পরিদর্শকের দপ্তরে পাঠাচ্ছে বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি সরকারি নির্দেশে উত্তর দিনাজপুর জেলার প্রত্যেক ব্লকে প্রাইমারি, হাইস্কুলগুলির ব্যাপারে সমীক্ষা ও তথ্য অনুসন্ধানের কাজ শুরু হয়। তাতেই সরকারি অনুমোদনহীন জেলায় ২০০টিরও বেশি বেসরকারি হাই ও প্রাথমিক স্কুলের হদিশ মেলে। জেলার স্কুল পরিদর্শক (মাধ্যমিক) দেবাশিষ সমাদ্দার বলেন, রাজ্যে পালাবদলের পর সমীক্ষা করে উত্তর দিনাজপুর জেলায় অনুমোদনহীন পঞ্চাশের বেশি বেসরকারি হাইস্কুলকে চিহ্নিত করা হয়। ধরানো হয়েছে শোকজ চিঠি। যেগুলি ইতিমধ্যে স্কুলের জমির তথ্য, স্কুলের তথ্য সহ বিভিন্ন নথি আমাদের দপ্তরে জমা করা শুরু করেছে। সেই স্কুলগুলির তথ্য আমরা রাজ্যে শিক্ষা দপ্তরে তথ্য পাঠাব। এরপর বিবেচনার ভিত্তিতে স্কুলগুলিকে সরকারি অনুমোদন দেওয়া হতে পারে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের তরফেও দেড়শোর বেশি প্রাইমারি স্কুলকে শোকজ করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিদর্শকের দপ্তরে শোকজের উত্তর যথাসময়ে না দিলে সংশ্লিষ্ট স্কুলকে এককালীন এক লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে হবে। তবে জেলায় শোকজের উত্তর আসা শুরু হয়েছে।
জেলা শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, নিয়ম না মেনে চলার অভিযোগে যেসব স্কুলকে শোকজের নোটিস ধরানো হয়েছে, প্রাথমিক স্তরে সেগুলি ইংলিশ মিডিয়াম ও মন্টেসরি। অভিযোগ, পাড়ায় পাড়ায় আচমকা গজিয়ে ওঠা বেসরকারি সেই স্কুলগুলির বেশিরভাগের পরিকাঠামো পর্যাপ্ত নয়। স্কুল চালানোর জন্য শিক্ষা দপ্তরের প্রয়োজনীয় নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট একাংশ স্কুলের কাছে নেই। সেগুলি পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও উল্লেখ্য, রাজ্যে পালাবদলের পর সরকারি নির্দেশে শুধু বেসরকারি প্রাইমারী ও হাইস্কুল নয়, সরকারি অনুমোদনহীন আড়াইশোরও বেশি মাদ্রাসারও হদিস মেলে জেলায়। সেগুলোর ব্যাপারে জেলা সংখ্যালঘু দপ্তরের তরফে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।