• তিস্তা, রংভংয়ে ব্লকেজ কাটেনি, ড্রোন উড়িয়ে নজরদারি মিরিকে
    বর্তমান | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: আপাতত কাটল বিপদের মেঘ। সিকিমে ধসের জেরে তিস্তা নদীর গতিপথ রুদ্ধ হলেও জলপ্রবাহ স্বাভাবিক রয়েছে। এর বাইরে অন্যকোনো নদীতে ব্লকেজ নেই। সোমবার এমনই দাবি করেছে সিকিম প্রশাসন। এদিকে, মিরিকে রংভং নদীর ‘ব্লকেজ’ পুরোপুরি কাটেনি। তাহলেও ধসের জেরে তৈরি প্রাকৃতিক বাঁধের একাংশ দিয়ে নদীর জল পাস হওয়ায় বিপদ কেটেছে বলেই দার্জিলিং জেলা প্রশাসনের দাবি। এদিন প্রশাসন ওই এলাকায় ড্রোনে নজরদারি চালায়। এনডিআরএফ ও এসএসবির জওয়ানদের নামানো হয়েছে। এই অবস্থায় সিকিম ও উত্তরবঙ্গে পাহাড়ে ঝোরা ও নদীগুলির গতিপথ নিয়মিত পরিচর্যা করার দাবি তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

    উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক রঞ্জন রায় বলেন, তিস্তায় কয়েকশো ঝোরা ও ছোট নদী মিলেছে। ধসে সেগুলির গতিপথ অবরুদ্ধ হয়ে জলাভূমি তৈরি হতে পারে। মেঘভাঙা বৃষ্টিতে সেগুলি ফেটেই হতে পারে বিপর্যয়। দার্জিলিং, কালিম্পং, মিরিক প্রভৃতি এলাকাতেও এমন সম্ভাবনা রয়েছে। রয়েছে এর অতীত নজিরও। 

    রবিবার ভোরে উত্তর সিকিমের মঙ্গন জেলার তিস্তা ও চিয়াকুং নদীর সঙ্গমে ধস নামায় তিস্তার গতিপথ রুদ্ধ হয়। তাতে বিপর্যয়ের আশঙ্কা থেকে চরম সতর্কতা জারি করা হয়। সোমবার অবশ্য তিস্তার ব্লকেজ কেটে গিয়েছে। 

    এদিকে, শনিবার ভোরে মিরিকের লাবারবোটে ধসের জেরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে রংভং নদীর গতিপথ। সেখানে প্রাকৃতিক জলাভূমি তৈরি হয়েছে। দুদিন ধরে মিরিকে ঘাঁটি গেড়ে নদীটির গতিপথ নিয়ে পর্যালোচনা করেন দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক হরিশংকর পিনাঙ্কার। প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়া ওই ‘ব্লকেজের’ একাংশ দিয়ে জল পাস হচ্ছে। এজন্যই নদীর গতিপথ অবরুদ্ধ হয়ে তৈরি হওয়া জলাভূমিতে জলস্তর বাড়ছে না। সাম্প্রতিক ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ জন ত্রাণ শিবিরে রয়েছেন। আজ, অফিসাররা মঙ্গলবার সেখানে ফের যাবেন। জেলাশাসক বলেন, ড্রোন উড়িয়ে ওই এলাকার উপর নজর রাখা হচ্ছে। সেখানে এসএসবি, এনডিআরএফ জওয়ানরা মোতায়েন রয়েছেন।
  • Link to this news (বর্তমান)