• দিল্লির হোস্টেল ধস কাণ্ডে মৃত সন্তানের কর্নিয়া দান করতে চায় শোকাহত পরিবার
    বর্তমান | ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • নয়াদিল্লি, ৮ সেপ্টম্বর: মানবতার নজির গড়ল মৃতের পরিবার। দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় হোস্টেল ভবন ধসে চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছিল বছর ১৯ এর পড়ুয়া অর্পিতের। তাঁর মৃত্যুর পরে শোকাহত পরিবার এমন এক সিদ্ধান্ত নিল যা সবার নজর কাড়ল। অর্পিতের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর তাঁর কর্নিয়া দানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবার। মৃত অর্পিতের চোখ দিয়েই যেন কোনো অন্ধ মানুষ তাঁর চোখের আলো ফিরে পায় এমনটাই ইচ্ছা তাঁদের। 

    পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, প্রিয় সন্তানকে হারানোর শোক সামলাতে না পারলেও অর্পিতের চোখের মাধ্যমে অন্য কেউ যাতে পৃথিবীর আলো দেখতে পারেন, সেই আশাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শোকের মধ্যেও পরিবারের এই সিদ্ধান্ত মানবিকতার এক অনন্য নজির হয়ে উঠেছে। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মারাম সনাতন ধর্ম কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন অর্পিত। রবিবার দক্ষিণ দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় হোস্টেল ভবন ধসে পড়ার ঘটনায় মোট সাতজনের মৃত্যু হয়। তাঁদেরই একজন অর্পিত। পরিবারের সঙ্গে রাখিবন্ধন উৎসব কাটিয়ে রবিবার সকালেই মধ্যপ্রদেশের নিজের শহর থেকে দিল্লি ফিরেছিলেন তিনি। কিন্তু সেদিনই ঘটে যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ছেলের দিল্লি ফেরার আগে মা তাঁকে ফিরে না যাওয়ার জন্য অনুরোধও করেছিলেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। পরে ছেলের নিথর দেহ দেখার পর শোকে জ্ঞান হারান তাঁর মা। তাঁকে দিল্লির এইমস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

    অর্পিতের বন্ধুরাও তাঁর মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন। তাঁদের কথায়, কলেজে ফিরে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি একটি কনসার্টে যাওয়ার পরিকল্পনাও ছিল তাঁর। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ ভবনটিতে মেরামতির কাজ চলার সময় সেটি আচমকা ভেঙে পড়ে। ধ্বংসস্তূপ থেকে মোট ১২ জনকে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের মধ্যে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে হোস্টেলের মালিক হরিরাম গুপ্তকে রাজস্থানের ভিওয়াড়ি এলাকা থেকে সোমবার আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। হোস্টেল মালিক -সহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)