এলাহাবাদ: ‘বিপথগামী আমলাতন্ত্রের স্বৈরাচারী আচরণ উত্তরপ্রদেশকে জর্জ অরওয়েল বর্ণিত দুঃস্বপ্নের রাজ্যে পরিণত করতে পারে।’ নয়ডায় শ্রমিক বিক্ষোভে উসকানির অভিযোগে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী আকৃতি চৌধুরীকে আটকের ঘটনায় এই ভাষাতেই যোগীরাজ্যের প্রশাসনকে ভর্ৎসনা করল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। জাতীয় নিরাপত্তা আইনে (এনএসএ) আকৃতিকে আটক করা হয়। সম্প্রতি ওই মামলায় আকৃতিকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। পাশাপাশি গৌতম বুদ্ধ নগরের জেলাশাসক মেধা রূপমকে আকৃতির জন্য ৫ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। মেধার অন্য পরিচয়, তিনি দেশের নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের মেয়ে। সোমবার আদালতের রায় বিস্তারিতভাবে প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানেই ঔপন্যাসিক জর্জ অরওয়েলের ‘দুঃস্বপ্নের রাজ্য’-র প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মেধা রূপমের ভূমিকায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। আমলাদের উদ্দেশে আদালতের উপদেশ, ‘সংবিধানের প্রতি আনুগত্য দেখান, রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি নয়।’ বলা হয়েছে, পুলিশি রিপোর্টে যদি প্রমাণ ছাড়া শুধু অভিযোগের উল্লেখ থাকে, তাহলে এনএসএ’র মতো আইন প্রয়োগের আগে জেলাশাসকের উচিত ছিল সব কিছু ভালো করে খতিয়ে দেখা। আকৃতি হিংসায় উসকানি দিয়েছেন, এমন প্রমাণ মেলেনি। জেলাশাসকের নির্দেশ হাস্যকর। এতে প্রমাণ হয়, আকৃতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে শ্রমিকদের পক্ষে মতপ্রকাশের অধিকার রুখতে চেয়েছিলেন জেলাশাসক।