• রাখির ছুটি কাটিয়ে ফিরতেই বিপর্যয়, দিল্লির বহুতলের ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়ুয়ারা, কী বললেন উদ্বিগ্ন পরিজন-বন্ধুরা?
    এই সময় | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • দিন কয়েক আগেই জম্মুর বাড়িতে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে রাখিবন্ধন উৎসব কাটিয়ে দিল্লির আস্তানায় ফিরেছিলেন নীরজ। মোতিলাল নেহরু কলেজের পলিটিক্যাল সায়েন্সের ছাত্র নীরজ বাওয়া হয়তো ভাবতে পারেননি, এ ভাবে মুহূর্তের মধ্যে ধুলোয় মিশে যাবে তাঁদের মেসবাড়িটি। দিল্লির সত্য নগর এলাকায় ‘Hostel Daze’ নামের ওই মেসবাড়ি রবিবার দুপুরে ভেঙে পড়ার খবর পেয়েই অন্যান্য সহপাঠীদের নিয়ে ছুটে আসেন নীরজের বন্ধু তন্ময় স্যানাল। রবিবার দুপুরে সত্য নিকেতনে ওই ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে তন্ময়ের চোখে-মুখে বন্ধুর জন্য উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট।

    অবশেষে, দীর্ঘ প্রচেষ্টায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নীরজকে উদ্ধার করা হয়। গায়ে লেগে চাপ চাপ রক্ত। ভারী সিমেন্টের চাঙড় ভেঙে পড়ে ভয়াবহ চোট লেগেছে কোমরের নীচের দিকে। উদ্ধারকারী দলের সাহায্যে কোনওরকমে বেরিয়ে এসেছেন তিনি। বর্তমানে AIIMS ট্রমা কেয়ার সেন্টারে চলছে পরিচর্যা। শরীর হয়তো সেরে উঠবে শুশ্রূষায়। কিন্তু মন? চোখের সামনে এমন ভয়াবহ বিপর্যয়ের কারণে যে গভীর ক্ষত তৈরি হলো মনের গভীরে, তার দায় কে নেবে? প্রশ্ন তুলছেন নীরজের বন্ধুরা।

    শুধু নীরজ নন। নীরজের মতোই রাখিতে ছুটি কাটিয়ে রবিবারই দিল্লির মেসে ফিরেছিলেন মধ্যপ্রদেশের অর্পিত জাজও। তারপরেই দুপুরে বাড়ি ভেঙে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়েন অর্পিত। উদ্ধাকারীরা তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যান AIIMS-এ। খবর পেয়ে অর্পিতের কাকু সৌরভ মিশ্র উপস্থিত হন হাসপাতালে। অর্পিতের খবর নিতে পৌঁছন তাঁর বন্ধুরাও। হাসপাতাল চত্বরেই অর্পিতের শারীরিক অবস্থা জানার জন্য উদ্বিগ্ন এক বন্ধু জানান, তাঁর ঘরে বেশ কয়েকদিন ধরেই ড্যাম্প ছিল। যে কোনও মুহূর্তে ভেঙে যেতে পারে ঘরটি, এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

    এমন ভয়াবহ অবস্থায় থাকা বাড়ির মধ্যে কেন ছিলেন পড়ুয়ারা? উত্তরে অভিষেক নামে এক পড়ুয়ার বন্ধু জানিয়েছেন, Paying Guest Accomodation-এর মালিক প্রত্যেক পড়ুয়াকে ১১ মাসের কন্ট্র্যাক্টে সই করিয়েছিলেন। তার জন্য ভাড়া বাবদ অগ্রিম টাকাও নেওয়া হয়েছিল। এত টাকা একসঙ্গে ভাড়া দেওয়ার পরে আবার অন্য কোথাও নতুন করে ভাড়া দিয়ে থাকার মতো আর্থিক সঙ্গতিও নেই অনেকেরই।

    রবিবারের এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ১১ জনকে। তাঁরা প্রত্যেকেই AIIMS Trauma Care-এ চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অধিকাংশেরই মাথা, ঘাড়, পা এবং কোমরে চোট লেগেছে।

  • Link to this news (এই সময়)