এই সময়: রাজ্যের প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে কৃষি সমবায় থেকে ‘নিয়মবহির্ভূত’ ভাবে বিপুল অঙ্কের ঋণ নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূলের কালীঘাট শিবিরের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। এর জন্য স্নেহাশিসকে গ্রেপ্তারের দাবিও করেছেন বেলেঘাটার বিধায়ক। অভিযোগ নিয়ে স্নেহাশিসের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও বিদ্রোহী তৃণমূল শিবিরের মুখপাত্র ঋজু দত্ত পাল্টা সারদা মামলায় বেলেঘাটার বিধায়ককে গ্রেপ্তারির দাবি করেছেন।
প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির তদন্ত করতে ইতিমধ্যে কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নেতৃত্বে কমিশন গঠিত হয়েছে। তাতে রয়েছেন আইপিএস অফিসার কে জয়রামন। কমিশন কাজও শুরু করেছে। এই প্রেক্ষাপটে রবিবার কুণালের দাবি, ‘রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী কৃষকদের জন্য নির্দিষ্ট কৃষি সমবায় থেকে ৮৫ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছেন। তাঁর এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ার নামে আরও ১০ লক্ষ টাকা এই কৃষি সমবায় থেকে ঢুকেছে। তিনি ওখান থেকে টাকা নিলেন কোন অধিকারে? তিনি কৃষক নন, ওই সমবায় সমিতির সদস্য নন। কৃষক হিসেবে ঋণ পেতে গেলে যে যে মাপকাঠি দরকার তার একটিও ওঁর নেই।’ প্রাক্তন মন্ত্রীকে গ্রেপ্তার ও তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার দাবিও করেন কুণাল।
বেলেঘাটার বিধায়কের অভিযোগ নিয়ে ঋজু পাল্টা একটি ভিডিয়ো (‘এই সময়’ এই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি) দেখিয়ে বলেন, ‘এই বিখ্যাত ভিডিয়োতে কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করে মুখোমুখি জেরা করতে হবে। স্নেহাশিসকে গ্রেপ্তারের দাবিকে যদি মান্যতা দিতে হয়, তা হলে কুণালের ২০১৪–র দাবিকে মান্যতা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁকেও সারদা মামলায় কাস্টডিতে নিয়ে মুখোমুখি জেরা করা হোক।’
এ দিকে, স্নেহাশিসের বিরুদ্ধে কৃষি সমবায় থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূলের কালীঘাট শিবিরের মুখপাত্র। কুণালের প্রশ্ন, ‘এই টাকা যে শোধ হয়েছে, তা চেকে না ব্যাঙ্ক ট্রানজাকশন না নগদে হয়েছে? যদি নগদে ঘন ঘন কিস্তির টাকা জমা পড়ে, তা হলে সেই অর্থের উৎস কী? ইতিমধ্যে ওই সমবায়ের একজনকে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির মনে করছে, স্নেহাশিসকে কালীঘাট শিবিরের আক্রমণ আদতে তাঁদেরই টার্গেট করা। ঋজুর কথায়, ‘আমাদের একজনকে অ্যাটাক করা মানে আমাদের কালেক্টিভকে অ্যাটক করা। আমরা একটি পরিবার। কারও বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকলে পুলিশ প্রশাসনের কাছে যে কেউ যেতে পারে। প্রশাসন তার মতো তদন্ত করবে।’