ছাতা খাটিয়ে রবিবার দুপুরে তাঁর ভ্যানের উপরে পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন এক বিক্রেতা। হয়তো ভাবতেও পারেননি যে, এক মুহূর্ত পরেই ঠিক কত বড় বিপর্যয় হতে চলেছে তাঁর চোখের সামনেই। মুহূর্তের মধ্যেই পাঁচতলা বাড়িটার একটা বড় অংশ ভেঙে পড়ল তার ভ্যানের উপরে। কোনওরকমে ধুলোর ধোঁয়া থেকে পালিয়ে বাঁচলেন তিনি। রবিবার দুপুরে দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় মেসবাড়ি ভেঙে পড়ার মুহূর্তে ঠিক কী ঘটেছিল? ধরা পড়ল ভাইরাল সিসিটিভি ফুটেজে (এই ফুটেজের সত্যতা যাচাই করেনি ‘এই সময় অনলাইন’)।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, রবিবার দুপুরে ‘Hostel Daze’ নামে ওই বিল্ডিংয়ের সামনে একটি ভ্যানের উপরে পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন এক বিক্রেতা। শুক্রবার থেকে লাগাতার বৃষ্টি হচ্ছে দিল্লিতে। সেই কারণেই একটি বড় ছাতা লাগিয়ে রেখেছিলেন ভ্যানের উপরে। বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে ভ্যানের উপরে সাজিয়ে রাখা পসরার উপরেও দিয়েছিলেন প্লাস্টিক।
সিসিটিভি ফুটেজের টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী, রবিবার ১টা ১৬ বেজে ২৩ সেকেন্ড পর্যন্ত সব ঠিক ছিল। এক সেকেন্ড পরেই কিছু একটা আঁচ করে উপরের দিকে তাকান ওই বিক্রেতা। তারপরেই দ্রুত সেখান থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। এক মুহূর্তের মধ্যেই উপর থেকে হুড়মুড় করে খসে পড়ে বাড়ির একাংশ। সঙ্গে সঙ্গে ধুলোর ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারিদিক। ধূলিসাৎ হয়ে যায় ভ্যানটিও।
স্থানীয় বাসিন্দারাও এই ঘটনার পরে তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, রবিবার দুপুরে নিজের বাড়িতে বসেই তিনি জোরালো শব্দ শুনতে পান। কিছুক্ষণের মধ্যেই একের পর এক অ্যাম্বুল্যান্সের সাইরেনের আওয়াজও ভেসে আসতে থাকে। জানলা দিয়ে তিনি দেখতে পান, ‘Hostel Daze’ নামে ওই বাড়িটির ভেঙে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে একের পর এক দেহ উদ্ধার করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে অবস্থিত এই সত্য নিকেতন এলাকায় একাধিক বাড়িই Paying Guest Accomodation হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু, অধিকাংশ বাড়ির বাইরেই কোনো সাইনবোর্ড নেই। এমনকী, উপযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই বলেও অভিযোগ।
ঘটনার পরে একটি বিবৃতি জারি করে ওই বাড়ির আশেপাশের বাড়িগুলি খালি করে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পরে আতঙ্কে আশেপাশের অনেক Paying Guest Accomodation ছেড়ে পড়ুয়ারা বেরিয়ে এসেছেন।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ছ’জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার পরেই ওই এলাকায় গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। রাতভর উদ্ধারকাজ চললেও সোমবার সকালেও অনেকে ওই ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে অনুমান। আর্থমুভার এনে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই ভেঙে পড়া এই বাড়ির মালিক হরিরাম বনসলের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। সোমবার সকালে তাঁর খোঁজে গুরুগ্রামে গেলেও, বাড়িতে তাঁকে পাওয়া যায়নি। একাধিক তদন্তকারী দল গঠন করে তদন্ত করা হচ্ছে।