এই সময়, হলদিয়া: আশি বছরের এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে সর্ম্পকে নাতনি এক মহিলার সঙ্গে অসদাচরণের 'মিথ্যা' অভিযোগ তুলে সালিশি সভায় ডেকে জরিমানা ও অপমান করার অভিযোগ উঠল স্থানীয় বাজার কমিটির চার সদস্যের বিরুদ্ধে। অপমানে বুলাশ্যাম মণ্ডল নামে ওই বৃদ্ধ বিষ পান করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন তিনি।
নন্দীগ্রামের সোনাচূড়া বাজার এলাকায় ওই ঘটনায় বৃদ্ধের পরিবারের তরফে নন্দীগ্রাম থানায় ওই চারজন চন্দন মণ্ডল, বেণীমাধব মণ্ডল, লক্ষীকান্ত মান্না এবং হিমাংশু মান্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বাজারের ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, অভিযুক্তরা এলাকায় বিজেপির কর্মী বলে পরিচিত। তাঁদের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোনাচূড়া বাজারে বুলাশ্যামের চায়ের দোকান রয়েছে। মাস দুয়েক আগে তাঁর দোকানে প্রতিবেশী এবং সম্পর্কে নাতনি এক মহিলা আসেন। বুলাশ্যামের সঙ্গে তাঁর রসিকতা, হাসি-ঠাট্টা হয়। বিষয়টি নিয়ে হঠাৎই বাজার কমিটির ওই চার সদস্য মাঠে নেমে পড়েন। বছর চব্বিশের ওই মহিলার সঙ্গে বৃদ্ধ খারাপ আচরণ করেছেন এমন অভিযোগ তুলে গত বৃহস্পতিবার সালিশি বসিয়ে বৃদ্ধকে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে বুলাশ্যামকে আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি অপমান করা হয় বলে পরিবারের লোকের অভিযোগ।
অপমানিত বুলাশ্যাম বাড়িতে ফিরে বিষ খান। যাঁকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা সেই মহিলা অবশ্য বলেন, 'ছোটবেলা থেকে দাদুর সঙ্গে রসিকতা, হাসি-ঠাট্টা করে এসেছি। মাস দুয়েক আগে সোনাচূড়া বাজারে গিয়েছিলাম। মাছ কেনার সময়ে দাদু আমার সঙ্গে কথার ছলে হাসি-মশকরা করেছিলেন। তাতে খারাপ কিছু দেখিনি। দাদুর বিরুদ্ধে আমার কোনও অভিযোগই নেই। কিন্তু পরে শুনলাম এলাকার কয়েকজন তাতে রং চড়িয়ে দাদুকে সালিশি সভায় ডেকে অপমান করেছে, জরিমানা করেছে। এটা তো বড্ড বাড়াবাড়ি করেছে।'
সোনাচূড়া বাজার কমিটির সদস্য ও প্রাক্তন সম্পাদক কুশধ্বজ মণ্ডল বলেন, 'জরিমানা নেওয়া হয়নি বলে জানি। তোলাবাজির কোনও ব্যাপার নেই। কিছু লোক ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বলে বেড়াচ্ছে। শুনেছি ওই বৃদ্ধ নিজে অন্যায় স্বীকার করেছেন।' হলদিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিবেক কুমার বর্মা বলেন, 'অভিযোগ হয়েছে। ঘটনা খতিয়ে দেখা হবে। তারপরে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করব।'
বিজেপি সমর্থক সোনাচূড়া বাজারের দোকানদারদের অধিকাংশ ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁদের দাবি, এ ধরনের তোলাবাজি এখনই বন্ধ হওয়া দরকার। বিজেপির স্থানীয় মণ্ডল সভাপতি বটকৃষ্ণ দাস বলেন, 'সোনাচূড়া বাজারের এই ঘটনা জানা ছিল না। খোঁজ নিচ্ছি। বিজেপির নাম ভাঙিয়ে যাঁরা এমন অন্যায় কাজ করেছেন, তাঁদের রেয়াত করা হবে না।'
বুলাশ্যামের ছেলে ভূদেব মণ্ডল দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি তুলেছেন। তিনি বলেন, 'যাঁকে জড়িয়ে এই ঘটনা সাজানো হচ্ছে সেই মহিলা কোথাও কোনও অভিযোগ করেননি। অথচ সোনাচূড়া বাজারে বিজেপির কিছু নেতা তিলকে তাল করে তোলাবাজি শুরু করেছেন। বাবাকে দশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অপমানজনক কথা বলেছেন ওঁরা। সে সব সহ্য করতে না পেরে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করতে যান বাবা। বাবার কিছু হলে ওই লোকগুলোই দায়ী থাকবেন।'