• ডাক্তার দেখাতে হলে সেই দোকান থেকে কিনতে হবে ওষুধ, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা
    এই সময় | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • এই সময়, আউশগ্রাম: ডাক্তার দেখাতে হলে আগে ওষুধের দোকানে জমা দিতে হবে ফি! ফি-এর সঙ্গে অতিরিক্ত ১০০ টাকা জমা না–দিলে মিলবে না ডাক্তারকে দেখানোর স্লিপ! তার পরে ওই দোকান থেকেই ওষুধ কিনতে হবে। ওষুধ না–কিনলে ফেরত পাওয়া যাবে না ওই অতিরিক্ত ১০০ টাকা!

    শুনে গল্প মনে হলেও বাস্তবে তেমনই হয়েছে। আর সেই অভিযোগ ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি পূর্ব বর্ধমান জেলার গুসকরা শহরের শিরীষতলা এলাকায়। রোগী ও তাঁর পরিজনদের বিক্ষোভের জেরে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় গুসকরা ফাঁড়ির পুলিশ। ওই ওষুধের দোকানের মালিককে আটক করে পুলিশ।

    স্থানীয় সূত্রে খবর, শিরীষতলার কাছে ওই ওষুধের দোকানে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন চিকিৎসক রোগী দেখেন। বর্ধমান থেকে আগত এক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞও এখানে নিয়মিত রোগী দেখেন। ফলে এই এলাকায় রোগীদের ভিড় লেগেই থাকে। অভিযোগ, ডাক্তার দেখানোর জন্য ফি হিসেবে নেওয়া হয় ৫০০ টাকা। ডাক্তার বসার আগেই সেই টাকা ওষুধের দোকানে জমা দিয়ে নাম নথিভুক্ত করতে হয়। রোগীদের অভিযোগ, ফি–এর সঙ্গে অতিরিক্ত ১০০ টাকাও দিতে হয়। এবং সেই টাকা ফেরত পেতে হলে ওই দোকান থেকেইওষুধ কিনতে হয়! ওষুধের বিল করার সময়ে সেই অতিরিক্ত ১০০ টাকা ফেরত দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

    শনিবার রাতে এই বিষয় নিয়েই রোগী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। স্থানীয়দের একাংশও সেই বিক্ষোভে অংশ নেন। রাজু সাহা ও সুজিত রায়ের অভিযোগ, ‘ওষুধের দোকান থেকে ছাপা দামের হিসেবেই টাকা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমরা কোথা থেকে ওষুধ কিনব, সেটা তো ব্যক্তিগত ব্যাপার। অন্য দোকান থেকে ওষুধ নিতে চাইলে বলা হচ্ছে, তা হলে এখানে ডাক্তার দেখানো যাবে না। ডাক্তারকে দেখানোর সঙ্গে নির্দিষ্ট একটি দোকান থেকে ওষুধ কেনার বাধ্যবাধকতা কেন থাকবে?’

    স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু গুসকরায় নয়, কাটোয়া, ভাতার, মন্তেশ্বর-সহ পূর্ব বর্ধমানের বিভিন্ন জায়গায় বেসরকারি চিকিৎসকদের দেখানোর ক্ষেত্রে এমনই ‘অলিখিত নিয়ম’ চালু রয়েছে। চিকিৎসকের চেম্বার সংলগ্ন নির্দিষ্ট ওষুধের দোকান থেকেই ওষুধ কিনতে রোগীদের চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তাঁদের দাবি, জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর ও ড্রাগ কন্ট্রোল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে সবাই উপকৃত হবেন।

  • Link to this news (এই সময়)