• ডিম থেরাপি রুখল পুলিশ, পদ্মকর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি
    এই সময় | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • এই সময়, শিলিগুড়ি: ধৃত তৃণমূল নেতা কাজল ঘোষকে 'ডিম থেরাপির' ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিলিগুড়ি মহকুমা আদালত চত্বরে ব্যাপক গন্ডগোল হয়। বিজেপির যুব মোর্চা কর্মীদের সঙ্গে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতি শুরু হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে যুব মোর্চার এক নেতাকে চুল টেনে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। ডিম ছোড়ার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে যুব মোর্চার চার নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ। পরে তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতে অবশ্য জামিনে মুক্তি পান তাঁরা।

    শনিবার জমি সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে বিধাননগরের দাপুটে তৃণমূল নেতা কাজলকে গ্রেপ্তার করে ফাঁসিদেওয়া থানার পুলিশ। এ দিন হাজতে তোলার পর থেকে কোর্ট চত্বরে বিজেপির যুব মোর্চার কর্মীরা ভিড় করতে থাকেন। আদালত কক্ষে নিয়ে যাওয়ার সময়ে কাজলকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়তে থাকেন তাঁরা।

    তার আগে অবশ্য এক পুলিশ আধিকারিক যুব মোর্চার কর্মীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'কেউ সীমা অতিক্রম করবেন না। বেআইনি কারবার হলে আমরা কিন্তু ব্যবস্থা নেব।' যদিও সেই হুঁশিয়ারিকে আমল না-দিয়ে তৃণমূল নেতাকে হাজতের বাইরে নিয়ে আসতেই একের পর এক ডিম ধেয়ে আসতে থাকে তাঁর দিকে। সঙ্গে সঙ্গে সক্রিয় হয়ে ওঠে পুলিশ। ডিম ছোড়ার অভিযোগে কয়েকজনকে টেনে হাজতের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে থাকে পুলিশ।

    সেই সময়ে যুব মোর্চার জেলা সাধারণ সম্পাদক মিথিলেশ শাহ-সহ কয়েকজনের সঙ্গে পুলিশের তুমুল ঝামেলা হয়। সৌরভরায় নামে একজন নিজেকে ৫ নম্বর মণ্ডল কমিটির এগজ়িকিউটিভ মেম্বার পরিচয় দিয়ে বলেন, 'কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ান আমার চুলের মুঠি ধরে টেনেছেন।' পুলিশের সঙ্গে রীতিমতো ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায় মোর্চার কর্মীদের। পরে চার জনকে আদালতের হাজতে নিয়ে যায় পুলিশ।

    হাজতের সামনে থেকেই মিথিলেশ পুলিশকর্মীদের বলতে থাকেন, 'আমার বিরুদ্ধে যদি কোনও ভিডিয়ো প্রমাণ না বের করতে পারেন, তাহলে আপনাদের সকলের বিরুদ্ধে আমি মামলা করব।' রাজীব মণ্ডল নামে একজন বলেন, 'পুলিশ যাঁকে গ্রেপ্তার করেছে, সেই তৃণমূল নেতা তো কোনও সমাজসেবী নন।' অনেকে আবার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে 'দালাল' বলে কটাক্ষ করেন। একাধিক পুলিশকর্মীর নাম ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন যুব মোর্চার কর্মীরা।

  • Link to this news (এই সময়)