বাংলায় ফের ভোটের বাদ্যি। এবার ভোট পুরসভা। দিনক্ষণ ঘোষণা হয়নি এখনও। তবে পুজোর পরেই পুরভোট হবে বলে খবর। বস্তুত, ভোটের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলি।
এদিকে ছাব্বিশে বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পর দু'টুকরো হয়ে গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমল কংগ্রেস। ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বেঁধেছে ঘাসফুল প্রতীকে জেতা বিধায়কদের একাংশ। কালীঘাট তৃণমূল আর ঋতব্রত শিবির। দু'পক্ষের দাবি, তাঁরা আসল তৃণমূল। কিন্তু ঘাসফুল প্রতীক কাদের? সেই দ্বন্দ্বের মীমাংসা হয়নি এখনও।
দিল্লিতে গিয়ে যখন নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের কাছে নিজেদের বক্তব্য পেশ করেছে ঋতব্রত শিবির, তখন নিজেকে চেয়ারম্যান বলে উল্লেখ করে তৃণমূলের জাতীয় কর্মসমিতির তালিকা জমা দিয়েছেন মমতাও। সামনেই পুরভোট। দু'পক্ষের দাবি, তারা কলকাতা কর্পোরেশনের ২০৯ আসনে প্রার্থী দেবে। এখন ভোটের আগে যদি প্রতীক দ্বন্দ্বের নিষ্পত্তি না হয়, সেক্ষেত্রে ঘাসফুল প্রতীকেই লড়বেন ২ শিবিরের ৪১৮ প্রার্থী!
কালীঘাটপন্থী তৃণমল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের অবশ্য দাবি, 'কেউ সমস্যা পড়ছে না। যাঁরা বিজেপিকে সমর্থন করার জন্য় তৈরি হয়েছে, বিজেপির সাহায্যে তৈরি হয়েছে, তারা তো বলবেই। যাতে ভোট কাটাকাটিতে বিজেপি জিতে যায়'। মানুষ বুঝবে কী করে? তাঁর সোজসাপ্টা জবাব, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি থাকবে। এরা যারা জিতে এসেছে, তাদের এমন একটা লোক বলতে পারবে, মমতার ছবি না ছেপে ইলেকশন করেছে! বাপের বেটা হলে বলুক'।
ঋতশিবিরের তৃণমূল নেতা ঋজু দত্তের বক্তব্য, 'আমরা ২০৯ আসনে লড়ব। পার্টি কী কৌশল সেটা বলব না। অনেকেই কান পেতে থাকে। আমাদের কৌশল আমাদের কাছে থাক না। এটুকু বলব বিজেপির বিরুদ্ধে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেস ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্যায়, আখরুজাম্মানের নেতৃত্বে লড়বে। আমরা আশাবাদী যে বিজেপির কালঘাম ছুটিয়ে দেব'।