জেলাশাসকের মাধ্যমে মতুয়াদের নাগরিকত্ব, দুর্গাপুরে ঘোষণা শান্তনু ঠাকুরের
eTV Bharat | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দুর্গাপুর, 6 সেপ্টেম্বর: উদ্বাস্তু ও মতুয়া সম্প্রদায়ের নাগরিকত্বের বিষয়টি নিয়ে এবার আরও তৎপর কেন্দ্র ও রাজ্যের বিজেপি সরকার ৷ খুব শীঘ্রই নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে দুর্গাপুরে এসে জানালেন মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর ৷ নাগরিকত্বের জন্য সরাসরি জেলাশাসকের কাছে আবেদন করতে হবে ৷
রবিবার দুর্গাপুরের বিধান ভবনে পশ্চিম বর্ধমান জেলা অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের 'মতুয়া সেনা' শাখার নতুন কমিটি গঠন করা হয় ৷ সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুর ৷ এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শান্তনু ঠাকুররে স্ত্রী তথা বিধায়ক সোমা ঠাকুর, লক্ষ্মণ ঘোরুই, চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অন্যান্যরা ৷
শান্তনু বলেন, "বাংলাদেশ থেকে বহু মানুষ এদেশে এসেছেন ৷ দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের নাগরিকত্বের বিষয়টি নিয়ে টালবাহানা করা হয়েছে । বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা থেকেও তাঁদের বঞ্চিত থাকতে হয়েছে ৷" এই ইস্যুতে নাম না-করে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে মতুয়াদের ব্যবহারের অভিযোগ করেন শান্তনু ৷
তিনি বলেন, "এর আগে পশ্চিমবঙ্গে অনেক সরকার এসেছে ৷ তারা কখনও মতুয়াদের নাগরিকত্ব দেওয়া নিয়ে কথা বলেনি বা চেষ্টা করেনি ৷ কেবল মতুয়াদের নিজেদের সুবিধা মতো ব্যবহার করেছে ৷ যদি তারা মতুয়াদের নাগরিকত্ব দিত, তাহলে তারা সমস্ত সরকারি সুবিধা পেত, সামাজিক সুরক্ষা পেত, অনেক এগিয়ে যেত ৷ "
মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি বলেন, "তবে, পরিস্থিতি বদলেছে ৷ বর্তমানে রাজ্যে যে সরকার আছে, তারা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলে, সরাসরি জেলাশাসকদের দিয়ে সিএএ-র মাধ্যমে নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজ করাচ্ছে ৷ খুব শীঘ্রই সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে ৷ মতুয়াদের নাগরিকত্বের জন্য সিএএ-তে আবেদন করতে বলব ৷ জেলাশাসকদের কাছে সেই আবেদন করুন, ফর্মফিলাম করুন ৷"
অন্যদিকে, মতুয়া মহাসংঘের সাংগঠনিক সম্প্রসারণ নিয়ে শান্তনু ঠাকুর বলেন, "অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘ গোটা ভারতে ছড়িয়ে আছে ৷ আমাদের সংগঠন আগেও ছিল ৷ তবে, সাংগঠনিক কাজকর্ম থেমে ছিল ৷ সেটাকেই আবার নতুন করে শুরু করলাম ৷ একাধিক কমিটি গঠন করা হয়েছে ৷ সেই কমিটিগুলির মাধ্যমেই সংগঠন ও সেবামূলক কাজকর্ম হবে ৷"
ময়তুয়া মহাসংঘের সদস্য কার্ড নিয়ে শান্তনু ঠাকুর এবং তাঁর ভাই তথা বিধায়ক সুব্রত ঠাকুরের মধ্যে যে বিবাদের কানাঘুষো তৈরি হয়েছিল, তা নিয়েও এ দিন সংঘাধিপতিকে মন্তব্য করতে শোনা যায় ৷ তিনি বলেন, "মতুয়া মহাসংঘের সদস্যতা কার্ড আগেও ছিল ৷ সেই কার্ড ইস্যু করা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তাতে কার কী ? তবে, সেটা আলোচনা করে ঠিক করা হবে ৷ তা না-হলে মতুয়া মহাসংঘ ভেঙে যাবে ৷ সেটা হলে মতুয়া সমাজের অস্তিত্ব সংকট হবে ৷"