নয়াদিল্লি, 6 সেপ্টেম্বর: রবিবার দুপুরে আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল পাঁচতলা বাড়ি। দক্ষিণ দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায়, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে এই ঘটনায় এখনও বহু জন ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে থাকার আশঙ্কা । এখনও পর্যন্ত আট জনকে উদ্ধার করা হয়েছে । পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে । পাঁচ জনের অবস্থা সঙ্কটজনক । পরে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর৷ আহত এক উদ্ধারকারীকে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ।
প্রায় 50 বছরের পুরনো বাড়িটিতে মূলত পড়ুয়াদের পিজি থাকার ব্যবস্থা ছিল । 'হস্টেল ডেজ' নামে পরিচিত ওই বাড়িতে বেসমেন্ট-সহ পাঁচটি তলা ছিল । রবিবার দুপুর সাড়ে 1টা নাগাদ আচমকা সেটি ভেঙে পড়ে । দুর্ঘটনার সময় বেসমেন্টে মেরামতির কাজ চলছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে । সেখানেই শ্রমিকেরা ছিলেন বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে ।
স্থানীয়দের দাবি, দিল্লিতে টানা বৃষ্টির জেরে কয়েক দিন ধরে বেসমেন্টে জল জমছিল । তাতেই বাড়িটির ভিত দুর্বল হয়ে থাকতে পারে । তবে বাড়ি ভেঙে পড়ার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয় । বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ ।
ঘটনার পর থেকেই চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ । দিল্লি পুলিশ, এনডিআরএফ, দিল্লি ফায়ার সার্ভিস এবং ডিডিএমএ-র দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু করে । রয়েছে দমকলের গাড়ি এবং ক্যাটস অ্যাম্বুল্যান্সও । সরু, ঘিঞ্জি গলির কারণে উদ্ধারকারী গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছতেও সমস্যা হচ্ছে । পরিস্থিতি সামাল দিতে আধাসেনা মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে অ্যাম্বুল্যান্স ও উদ্ধারকারী দলের যাতায়াত নির্বিঘ্ন থাকে ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও 40 থেকে 50 জন আটকে থাকতে পারেন । তবে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ঠিক কত জন নিখোঁজ বা আহত, তা এখনও নিশ্চিত নয় । ফলে স্থানীয়দের দেওয়া সংখ্যাকে সরকারি হিসাব হিসেবে ধরা হচ্ছে না । উদ্ধারকারী দল সাত থেকে আটটি ভাগে ভাগ হয়ে ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালাচ্ছে ।
এই এলাকায় বাড়িগুলির একটি বড় অংশই এখন পড়ুয়াদের পিজি । স্থানীয়দের কথায়, ভেঙে পড়া বাড়িতেও প্রায় 15টি ঘর ছিল এবং এক একটি ঘরে দু'তিন জন করে ছাত্র থাকতেন । কেরল, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা বহু পড়ুয়া আশপাশের কলেজগুলিতে পড়াশোনা করেন । তাঁদের মধ্যে মোটিলাল নেহরু কলেজ, আত্মারাম সনাতন ধর্ম কলেজ এবং শ্রী বেঙ্কটেশ্বর কলেজের পড়ুয়ারাও ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে ।
উদ্ধারকাজে প্রশাসনের পাশাপাশি হাত লাগিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও । কারও হাতে কোদাল, কারও হাতে সামান্য সরঞ্জাম, যা পাওয়া যাচ্ছে, তা দিয়েই ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা চলছে । বিজেপি বিধায়ক অনিল শর্মার দাবি, ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে থাকা কয়েক জনের কাছ থেকে ফোনও আসছে । ফলে জীবিতদের দ্রুত উদ্ধারের আশায় তল্লাশি আরও জোরদার করা হয়েছে ।
ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত, উপরাজ্যপাল তরণজিৎ সিং সান্ধু, পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমার এবং সাংসদ বাঁসুরি স্বরাজ । কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন । মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন তিনি । এ দিকে, বাড়িটির মালিকের বিরুদ্ধে এফআইআর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে । পুলিশ জানিয়েছে, মালিক গুরুগ্রামে থাকেন বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে । তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে ৷
সত্য নিকেতনের এই দুর্ঘটনা ফের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে শহরের পুরনো বাড়িগুলির নিরাপত্তা নিয়ে । স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু বাড়ি পিজিতে পরিণত হলেও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ হয় না । রবিবারের ধসের পরে তাই শুধু ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে থাকা মানুষগুলিকে উদ্ধারের তাগিদ নয়, গোটা এলাকার পুরনো ও পিজিতে পরিণত হওয়া বাড়িগুলির নিরাপত্তা নিয়েও উঠছে বড় প্রশ্ন ।