• মৃত্যুর পর ফেলে দেবেন না আধার-প্যান-ভোটার কার্ড! কোন পরিচয়পত্রের কী হবে, রইল বিস্তারিত
    আজকাল | ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতে সাধারণ মানুষের কাছে আধার কার্ড, ভোটার আইডি, প্যান কার্ড এবং পাসপোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি। ব্যাঙ্কিং পরিষেবা, সরকারি প্রকল্প, সম্পত্তি সংক্রান্ত কাজ, কর প্রদান থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি পরিষেবা পেতে এই পরিচয়পত্রগুলির প্রয়োজন হয়। কিন্তু কোনও ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলির কী হয়? পরিবারের সদস্যদেরই বা কী করা উচিত? এই বিষয়টি অনেকের কাছেই অজানা।

    আধার কার্ড একজন নাগরিকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র। তবে কোনও ব্যক্তির মৃত্যুর পর আধার কার্ড সরাসরি ‘সারেন্ডার’ বা বাতিল করার জন্য বর্তমানে আলাদা কোনও সাধারণ প্রক্রিয়া নেই। পরিবারের সদস্যরা সংশ্লিষ্ট পৌরসভা, পুরসভা বা গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে মৃত্যুর শংসাপত্র সংগ্রহ করেন।

    জন্ম ও মৃত্যু সংক্রান্ত তথ্য আধার ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার প্রক্রিয়া চালু হওয়ায়, মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত হলে সংশ্লিষ্ট আধার নম্বর নিষ্ক্রিয় করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এর ফলে মৃত ব্যক্তির আধার পরিচয় ব্যবহার করে অপব্যবহার বা জালিয়াতির সম্ভাবনা কমে।

    প্যান কার্ডের ক্ষেত্রে বিষয়টি কিছুটা আলাদা। কোনও ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর প্যান কার্ড সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করা উচিত নয়। কারণ মৃত ব্যক্তির নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, বিনিয়োগ, আয়কর রিফান্ড, সম্পত্তি বা অন্য কোনও আর্থিক বিষয় থাকলে সেগুলি নিষ্পত্তির জন্য প্যানের প্রয়োজন হতে পারে।

    সমস্ত আর্থিক লেনদেন এবং আয়কর সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর পরিবারের আইনগত উত্তরাধিকারী চাইলে আয়কর বিভাগের কাছে মৃত ব্যক্তির প্যান কার্ড জমা দিয়ে সেটি নিষ্ক্রিয় করার উদ্যোগ নিতে পারেন। তবে প্যান কার্ড জমা দেওয়া সব ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক নয়। তা সত্ত্বেও ভবিষ্যতে আর্থিক জালিয়াতি এড়াতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করে প্যান সংক্রান্ত বিষয়টি নিষ্পত্তি করা বুদ্ধিমানের কাজ।

    মৃত ব্যক্তির ভোটার আইডি যাতে অন্য কেউ ব্যবহার করতে না পারে, তার জন্য ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য স্থানীয় নির্বাচনী রেজিস্ট্রেশন আধিকারিকের কাছে মৃত্যুর শংসাপত্রসহ ফর্ম ৭ জমা দিতে হয়। যাচাইয়ের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যায়।

    পাসপোর্টের নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকে। সেই মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে পাসপোর্ট স্বাভাবিকভাবেই আর বৈধ থাকে না। তাই কোনও ব্যক্তির মৃত্যুর পর আলাদাভাবে পাসপোর্ট বাতিল করার জন্য সাধারণত আবেদন করার প্রয়োজন হয় না। তবে পরিবারের সদস্যদের উচিত মৃত ব্যক্তির পাসপোর্টটি নিরাপদে রাখা এবং অপব্যবহার যাতে না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা।

    অর্থাৎ, কোনও ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর পরিচয়পত্রগুলি ফেলে দেওয়া বা সঙ্গে সঙ্গে বাতিল করার বদলে সংশ্লিষ্ট নথির নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। বিশেষ করে প্যান কার্ডের ক্ষেত্রে আর্থিক ও আয়কর সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় নিষ্পত্তি হওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
  • Link to this news (আজকাল)