আগস্টের শেষ দিন আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সি তুলে রেখেছেন লিওনেল মেসি। তাঁকে স্পেশাল ট্রিবিউট জানাতে সপ্তাহান্তে সেদেশের ফুটবলের প্রায় প্রতিটি স্তরের ম্যাচেই এক মিনিটের জন্য থামবে খেলা। কিন্তু তাঁর অবসরের প্রভাব পড়েছে বিশ্বফুটবলেও। এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে, মেসি অবসর নেওয়ায় তাদের দেশে আর্জেন্টিনার ম্যাচ বাতিল করে দিয়েছে চিন। তাই প্রশ্ন উঠছে, এলএম১০ আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বুটজোড়া তুলে রাখতেই আর্জেন্টিনার আকর্ষণ কি কমে গেল?
সেপ্টেম্বরের শেষে আর্জেন্টিনার সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা ছিল চিনের। এশিয়ার দেশে প্রীতি ম্যাচ খেলার প্রস্তাব পেয়েছিল ‘লা আলবিসেলেস্তে’। তবে মেসির অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক শর্ত হওয়ায়, প্রাথমিক আলোচনাও ভেস্তে গিয়েছিল। কারণ সেই সময় বাবার মৃত্যুতে বিপর্যস্ত ছিলেন এলএম১০। এমনকী তিনি খেলবেন কিনা, সে ব্যাপারেও কোনও নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি তখন। সম্প্রতি অবসর নিয়েছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ী অধিনায়ক। অর্থাৎ চিনের বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচে কোনওভাবেই খেলবেন না মেসি। সেই কারণেই আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ম্যাচ বাতিল করে দিয়েছে চিনের ফুটবল সংস্থা। আসলে মেসি বিশ্বফুটবলের ব্রান্ডিং। মেসি মানেই লাইমলাইট। তিনি মাঠে থাকা মানেই বিজ্ঞাপনের বাজারে বিশাল ধামাকা। অনেকেই মনে করছেন, মেসি না থাকায় সেসব থেকে বঞ্চিত হবে চিন। সেই কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।
জানা গিয়েছে, চিনের এ হেন সিদ্ধান্তের পর আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন তাদের পরিকল্পনা বাতিলের কথা বলেছে। এশিয়া সফরের ভাবনা আপাতত বাতিল করে ঘরের মাঠেই তিনটি ম্যাচ খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবরের ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতিতে আর্জেন্টিনার তিনটি ম্যাচ হওয়ার কথা। ‘ইএসপিএন আর্জেন্টিনা’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা ইতিমধ্যেই সেই পরিকল্পনা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে। প্রথম ম্যাচটি হতে পারে বুয়েনস আইরেসের এল মনুমেন্টালে। প্রতিপক্ষ হিসাবে দক্ষিণ আমেরিকার কোনও দেশ অথবা কনকাকাফ অঞ্চলের দলকে দেখা যেতে পারে। বাকি দু’টি ম্যাচের জন্য আলোচনায় রয়েছে কর্দোবা এবং রোসারিয়ো।
ওই সংবাদমাধ্যম সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ম্যাচগুলি আর্জেন্টিনার মাটিতে খেলার সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশ। মেসির অবসরই যে এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ, সেটি দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। চিনের সঙ্গে ম্যাচের পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর এটা সম্ভবত আর্জেন্টিনার প্ল্যান ‘বি’। প্রসঙ্গত, মেসি-পরবর্তী যুগে এবার নতুন করে দল গড়ে তোলার পালা স্কালোনির। জুলাইয়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে বিশ্বকাপ ফাইনাল হারের পর নতুন ভাবে ভাবতে হচ্ছে তাঁকে। সেপ্টেম্বরে ঘরের মাঠের এই তিন ম্যাচ সেই পরীক্ষারই প্রথম বড় মঞ্চ হতে পারে। নভেম্বর ৯ থেকে ১৭ তারিখের মধ্যেও রয়েছে আরও একটি ফিফা উইন্ডো। মেসিকে ছাড়া নতুন প্রজন্মকে ধীরে ধীরে দলের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য সময়টা তাই স্কালোনির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।